প্লিজ একটা করো
প্লিজ একটা করো


প্লিজ তুমি কিছু একটা করো, আমার বিয়ে ঠিক
হয়ে গেছে।
— কত কিছু তো করলাম কিন্তু কিছুই হলো না।
— বাবার সাথে আরেকবার দেখা করো।
— উম আবার লাথ খেয়ে বাড়ি ফিরবো। সেটাই
চাও তো?

— নাহ। তুমি বাবাকে ভালো করে বুঝাও।
দেখবে ঠিক মেনে নিবে।
— কি মানবে? হ্যা?? কি মানবে? সেদিন সাফ
বলেই দিছে আমার হাতে তোমাকে তুলে দিবে
না।
— আমি কি করবো বলো তুমি। আমারও তো
তোমাদের মতো দুইটা হাত। এক হাতে তোমাকে
চাই আর আরেক হাতে ফ্যামিলিকে। কাউকে
ছাড়তে পারবো না আমি। (কেঁদে কেঁদে)
— আমার হাত ছেড়ে দাও।
— কিইইই?? আবার বলবে?
— আমি তোমার যোগ্য নই। আমার হাত ছেড়ে
দাও।
— এ কথা তুমি বলতে পারলে?
— হ্যা পারলাম। কারন আমাদের কাছে আর কোন
অপশন নাই।
— আর যাই হোক আমি তোমার হাত ছাড়তে
পারবো না।
— তাহলে আমার সাথে পালাবে? হ্যা? থাকবে
কোথায়? খাবে কি?
— তা আমি কিচ্চু জানিনা। আমি তোমাকে
ছাড়বো না। আই লাভ ইউ।
— যাই বলো তুমি আমাকে ছাড়তেই হবে।
কেননা,,,,
— কেননা কি??
— তুমি জানো আমাদের সমস্যাটা কি? আমরা
কি ভুল করেছি?
— কি করেছি?
— সমবয়সী আমরা রিলেশন করেছি।
— কিইইইইই?? কি বলতে চাও তুমি?
— আমি যা বলতে চাচ্ছি তুমি সেটা বুঝে
ফেলেছো। আশা করি আর এক্সপ্লেইন করতে হবে
না।
— নাহ করতে হবে। তুমি আগে থেকেই যখন
জানতে এসব হবে তাহলে সুখের স্বপ্ন দেখালে
কেন? কেন আমাকে তোমার ভালোবাসায়
জড়িয়েছো? কেন আমার হাত ধরে নতুন জীবন
দেখিয়েছো? কেন কেন কেন? এক্সপ্লেইন ইট
প্লিজ। (হাউ-মাউ করে কেঁদে)
— তখন আমি আবেগের মোহে ভালোবাসায় পা
দিয়েছি। কিন্তু এখন বাস্তবতা আমাদের সামনেই
হাজির। কেউ একজন ঠিকই বলেছিলো, বাস্তবতা
দরজা খটকালে আবেগের ভালোবাসা জানালা
দিয়ে পালায়। তার উৎকৃষ্ট উদাহরন আমি। আমি
পালাই নি, পরিস্থিতি আমাকে বাধ্য করেছে।
— তার মানে তুমি আর আমাকে চাচ্ছো না?
(ওড়না দিয়ে চোখ-গাল মুছে)
— চাইলেই পাবো না এটা জানা কথা।
— তুমি কি করবে জানিনা কিন্তু আমি কি করবো
আমাকে বলে দাও।
— বিয়ে করে ফেলো।
— এটাই তোমার লাষ্ট ডিসিশন?
— হ্যা।
— আচ্ছা, ঠিকাছে। তুমি যখন বলছো তাহলে বেশ।
যাচ্ছি আমি।
— নিজের খেয়াল রেখো, ঠিকমতো খাওয়া-
দাওয়া করো, টাইম মেন্টেন করে চলো।
মেয়েটি তার কোন কথা না শুনে হন হন করে
হাটছে। সে একপানে ওর চলে যাওয়া দেখছে।
হঠাৎ মেয়েটা পিছন মোড়ে আবার তার কাছে
ফিরে আসছে। সে চোখের জল মুছে একটু হাসি
মুখে তাকালো।
— আব্বু আম্মুর খেয়াল রাখবে, ওদেরকে কোনদিন
কষ্ট দিবে না। (মেয়ে)
— ওদের কষ্ট দিবো না বলেই আমি আমার
ভালোবাসাকে বিসর্জন
দিচ্ছি।
— ওহহ। একটা কথা রাখবে?
— কি বলো,,
— শেষবারের মতো তোমার বুকে আমায় নিবে??
(কেঁদে কেঁদে)
..
মেয়েটার শেষ কথা তার বুক ছিড়ে ফেললো।
হ্রদয়টা মনে হয় কেউ মুচরিয়ে পিষে ফেলছে।
চোখে আটকানো জল এক নিমিষেই ছেড়ে দিলো।
মনে এতো কষ্ট চেপে রাখছে যা কেউ দেখছে না।
কেউ যদি তার বুক ছিড়ে কষ্ট বের করে দেখে
তাহলে কেউ আর ভালোবাসার স্পর্শে যাবে না।
যাওয়া তো দূরের কথা ভাবনাতেই আসবে না।
ভালোবাসার পরিনতি কি, ভালোবাসার কষ্ট
কতটা যন্ত্রনাদায়ক, কতটা হ্রদয়বিধারক তা উন্মচন
হতো। ভালোবাসার প্রথম চাপ্টার যতটা সহজ
তার চেয়েও বেশি কঠিন ভালোবাসার শেষ
চাপ্টার।
..
..
..
# গুরুত্বপূর্ণ_মেসেজ :- আজ-কালকের যতটা
রিলেশন আমরা দেখতে পাচ্ছি তার মধ্যে
অধিকাংশই Same Age এর। ক্লাস নাইন-টেন
থেকেই ভালোবাসার মায়াজালে আটকা পড়ে
অনেকে। তখন তাদের হিতাহিত কোন জ্ঞান
থাকে না কি করবে আর কি করবে না। মাথায় শুধু
আবেগের তাড়নাই ঘুরপ্যাচ মারবে। প্রত্যেকটা
ভালোবাসার শুরুতে আবেগীয় কারবার জড়িত।
যখন কেউ প্রেমে পড়ে তখন তার চারপাশে কি
ঘটে খেয়াল-ই করে না। হঠাৎ করে ভালোবাসার
মানুষটার প্রতি এতই আবেগ এতই অনুভূতি জাগে যে
বাস্ততাকে গভীর নিদ্রায় ফেলে দেয়।
ভালোবাসার পায়ের ধুলিটাও আশির্বাদস্বরূপ
মাথায় তুলে নিতে এক সেকেন্ডও ভাবে না। শুধু
ধুলি কেন? পুরোজীবনটাও লুটিয়ে দিতে প্রস্তুত
থাকে। এরকম হাজার-হাজার প্রেমিক-প্রেমিক
া আমাদের চারপাশে রয়েছে। আবেগের মোহে
যতসব পাগলামী আছে সবকিছু করে দেখায়। কিন্তু
ফলাফল কি?? “কষ্ট’। হ্যা কষ্টই তো। কষ্ট ছাড়া
ভালোবাসার আর কোন ফলাফল নেই। যেখানে
ভালোবাসা আছে সেখানে কষ্টও আছে।
ভালোবেসে কেউ কষ্ট ছাড়া কিছুই অর্জিত করতে
পারে না। এককথায় বলা যায় যে, ভালোবাসার
অপর নাম কষ্ট। বাস্তবতা যখন নিদ্রা থেকে উঠে
দরজা কটকায়, আবেগ তখন জানালা দিয়ে পালায়।
যে ভালোবাসার ধুলি আশির্বাদস্বরূপ ছিল, সেটা
তখন ঝেড়ে ফেলে দেয়া হয়। যতই দামী অমুল্য
সম্পদ থাকুক না কেন, ধুলিটা বাতাসেই উড়ে যায়।
..
ভালোবাসা এক প্রবল ভাবাবেগ, যেখানে কিছু
সময়ের হাসি কিছু সময়ের খুশি আর সারাজীবনের
কষ্ট বিদ্যমান। সবসময় একটি মনে রাখবেন,
আবেগের বশবর্তি হয়ে নিজের জীবনকে নষ্ট
করবেন না।জীবন অনেক সংক্ষিপ্ত, এসময়ে অনেক
কিছু করার থাকে। অকারনে ভালোবাসার ফাঁদে
পা দিয়ে জীবন নষ্ট না করাই ভালো।
Please Rate This Post