মধ্য রাতে হঠাৎ modho rate hothat
মধ্য রাতে হঠাৎ


মধ্য রাতে হঠাৎ মোবাইলের রিংটোনের
শব্দে ঘুম ভেঙে গেলো.
ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে কলটা রিসিভ করলাম. রিসিভ
করতেই ফোনের ওপাশ থেকে কান্নার আওয়াজ
ভেসে আসলো!


আমি বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠে
মোবাইলের দিকে তাকিয়ে দেখি বৃষ্টির
নাম্বার.
আমি তো পুরাই অবাক!
এত রাতে বৃষ্টি তো কল দেয় না. আর কল দিয়ে শুধু
কান্না করছে.
মনের মাঝে অজানা ভয় কাজ করছে.
কি হলো বুঝতে পারছি না.
__> বৃষ্টি কি হয়েছে তোমার, আর কান্না করছ
কেনো.-( আমি )
__> তুমি এখন কোথায়-( বৃষ্টি )
__> আমি তো এখন বাসায়, কেনো? কি হয়েছে
তোমার?
__> তুমি কি এখন আমার বাসায় আসতে পারবে..?
__> এত রাতে( রাত অনুমানিক ২ টা বাজে ) কি
হয়ে আগে সেটা তো বলো..?
__> বলো আসতে পারবে কি না..?
__> আরে আমি এত রাতে কিভাবে আসবো.
বলো কি হয়েছে..?
__> তুমি আসতে পারবে কি না সেটা বলো.
নয়তো আমি মরে যাবো.?
__> প্লিজ জানু একটু বুঝার চেষ্টা করো. বলো কি
হয়েছে.?
__> আমার খুব ভয় করছে তুমি তাড়াতাড়ি চলে
আসো.??
__> কি হয়েছে আর কেনো ভয় করছে..?
__> আগে আসো..?
__> কেনো ভয় করছে সেটা তো বলো..?
__> আমি একটা খারাপ স্বপ্ন দেখেছি,তাই এখন
আমার খুব ভয় করছে..?
__> তোমার মা কোথায়..?
__> উনি পাশের রুমে শুয়ে আছেন..?
__> তুমি গিয়ে উনার পাশে শুয়ে পরো. আমি এত
রাতে আসতে পারবো না..?
__> তুমি না আসলে আমি কিন্তু কিছু একটা করে
নিজেকে শেষ করে দিবো..?
__> প্লিজ জানু তুমি তোমার মায়ের কাছে
গিয়ে শুয়ে পরো. আমি এত রাতে কিভাবে
আসবো বলো.?
__> তুমি আসবে কি না সেটা বলো-( রাগী
সুরে )
__> এত রাতে আমি আসবো কিভাবে.তুমি একটু
বুঝার চেষ্টা করো জানু..?
__> আমি কোনো কিছু বুঝতে চাই না,তুমি যদি
না আসো আমি মরে যাবো..?
__> প্লিজ জানু রাগ করো না..?
__> তুমি আসবে কি না সেটা বলো..?
__> আচ্ছা ঠিক আছে, আমি আসছি..?
কি আর করা হবু বউয়ের কথা কি আর ফেলতে
পারি. দুনিয়াতে আমার একটা মাত্র হবু বউ
বৃষ্টি. তার কথা কিভাবে ফেলতে পারি.
আর বৃষ্টি যা বলে তাই করে. একবার আমার জন্য
নিজের হাতও কেটে ফেলে.
আর আমি চাই না আমার জন্য আমার জানপাখির
কোনো কষ্ট হোক.
ওহ্ আপনাদের তো আমাদের পরিচয় দেওয়া
হয়নি, আমি পি ডি রাজ. একটা ছোটখাটো
সরকারী চাকরী করি, আর যার সাথে এতক্ষণ
কথা হলো, তিনি আমার জানপাখি হবু বউ বৃষ্টি,
বাবা নেই মা আছেন, একমাত্র সন্তান তাদের,।
কি আর করা বাধ্য ছেলের মতো বাসা থেকে
বের হলাম.
না গেলো কিছু একটা করবে নিশ্চিত.
রাস্তায় বের হয়ে দেখি রাস্তার কুকুর’টাও
জেগে নেই.
মানুষজন তো দূরে.
নিস্তব্ধ আকাশ, নিরব শহর. একটা অজানা ভয় মনে
কাজ করছে,কিন্তু কোনো কিছু চিন্তা না করে
বৃষ্টির বাসার দিকে রয়না হলাম.
আমাদের বাসা থেকে বৃষ্টির বাসা বেশী দূর
না,পাঁচ মিনিটের রাস্তা.
কিন্তু এত রাতের বেলা, অনেক সময়.
কথা বলতে বলতে চলে এলাম বৃষ্টিদের বাসায়.
গিয়ে দেখি দেখি দরজা লাগানো.
দরজায় বেল দিতেই দরজা খুলে বৃষ্টি এসে
আমার জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দিলো.
মনে হয় আমার জন্যই দরজায় দাড়িয়ে অপেক্ষা
করছে.
__> কি হয়েছে বৃষ্টি, এবার কান্না বন্ধ
করো,আমি তো আছি.?
__> না আমি কান্না বন্ধ করবো না.?
কি মুশকিলেরর মধ্যে পরলাম, এত রাতে কি শুরু
করলো..?
এর মধ্যে দেখি বৃষ্টির মা চলে এসেছেন.
__> তুমি এসেছ বাবা-( বৃষ্টির মা )
__> হা আমি এসেছি. আচ্ছা বৃষ্টির কি হয়েছে.
আর কান্না করছে কেনো-( বৃষ্টি এখনও আমা
জড়িয়ে ধরে আছে )
__> জানি না বাবা, হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে
কান্না শুরু করে দিলো. আর বাবা বলছে
তোমাকে কল দেওয়ার জন্য,
__> ওহ্..
__> তুমি যখন এসেছ,দেখো কি হয়েছে ওর. আমি
ঘুমাতে গেলাম-( বলেই তিনি চলে গেলেন.)
হবু মেয়ের জামাইয়ের হাতে মেয়েকে দিয়ে
গেলেন.
পাঁচ বছরের সম্পর্কের পর বিয়ে হতে যাচ্ছে.আর
মাত্র কয়েকদিন পরেই আমাদের বিয়ে.
বৃষ্টিকে নিয়ে বিছানায় বসালাম.
__> তুমি আমায় ছেড়ে কোথায় যাবে না বলো-
( বলেই আবার কান্না শুরু করে দিলো বৃষ্টি )
__> না আমার পাগলী, আমি তোমাকে ছেড়ে
কোথায়ও যাবো না-( মাথ হাত দিয়ে চুলগুলো
নাড়ছি,আর বৃষ্টি আমার কাধে মাথা রেখে
আছে )
__> তুমি আমাকে সারাজীবন ভালবাসবে
বলো..?
__> আমি তোমাকে সারাজীবন ভালবাসো-
( বলেই বৃষ্টিকে জড়িয়ে ধরলাম )
__> তুমি কি এভাবেই আমায় সারাজীবন
জড়িয়ে ধরবে..!
__> হুমমমম..
__> তুমি কি এভবেই সারাজীবন আমাকে
তোমার বুকের মধ্যে আগলে রাখবে..?
__> আমার এ দেহে যতদিন প্রান থাকবে ততদিন
তোমাকে এভাবেই আগলে রাখবো,এবার বলো
কি স্বপ্ন দেখলে যার জন্য এত রাতে তোমার
বাসায় আসতে হলো..?
__> আমি একটা খারাপ স্বপ্ন দেখেছি..!
__> কি খারাপ স্বপ্ন দেখেছ..!
__> আমি দেখেছি তুমি অন্য কারো হয়ে
গেছো. তুমি অন্য কাউকে বিয়ে করেছ..?
__> স্বপ্ন কখনও সত্যি হয় না কি পাগলী
কোথাকার..?
দেখুন দেখি কান্ড, একটা স্বপ্নের কারনে আমার
এত রাতের ঘুম নষ্ট হয়ে গেলো. আর তিনি
কান্না করে চোখের জল দিয়ে আমায় স্নান
করিয়ে দিচ্ছেন. একটু বেশী ভালবাসে তো
তাই এরকম.
সত্যি কারের ভালবাসা এরকমই, নিজের জীবন
দিয়ে হলেও প্রিয়জনকে কেউ হারাতে চায়
না.
__> আমি শুধু তোমার পাগলী . তুমি অন্য কারো
হলে আমি বাচঁবো না.-( বৃষ্টি )
__> তেমাকে কে বলেছে আমি অন্যকারো হয়ে
যাবো.-( আমি )
__> আমি কি করবো,স্বপ্নে এমন কিছু দেখালো
কেনো..?
__> দাড়ায় তোমায় স্বপ্ন মিথ্যা করতে হবে..?
__> কিভাবে..?
__> আর কোনো দেরী না, এটা ফাল্গুন মাস আর
কাল একটা বিয়ের তারিখ আছে. কালকেই মা
বাবাকে বলে শুভ কাজ’টা শেষ করতে চাই..?
__> সত্যি-( বলেই একটা হাসী দিলো,দেখে
মনে হবে কোনো এভারেস্ট জয় করে ফেলেছে.
তা অবশ্য ঠিক,ভালবাসার মানুষকে সারা
জীবনের জন্য পাওয়া আর এভারেস্ট জয় করার
মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই.)
__> হুমমম জানপাখি. নয়তো আবার কোন স্বপ্ন
দেখবে, আর আমাকে আবার আসতে হবে. তার
চেয়ে ভালো তোমাকেই নিয়ে যাই.?
__> আমার লক্ষী বর.-( বলেই আমার ঠোটের মধ্যে
বৃষ্টির ঠোট দুটি এক করে নিলো )
__> এবার ছাড়োন মহারানী,আমাকে বাসায়
যেতে হবে..?
__> বাসায় যাওয়ার কোনো দরকার নেই
এতরাতে, আজ এখানেই থেকে যাও.?
__> এখানে কোথায় থাকবো. আর কোথায়
ঘুমাবো..?
__> কেনো আমার পাশে ঘুমাবে..?
__> তোমার পাশে ঘুমাবো,মানুষ জানলে কি
বলবে,.?
__> কি বলবে..?
__> বলবে একটা অবিবাহিত মেযের ঘরে
আরেকটা অবিবাহিত ছেলে ঘুমায় কি করে..?
__> ঘুমায় কি করে দেখবে-( বলেই টান দিয়ে
বিছানায় ফেলে দিলো)
শীতের রাত,লেপের নিচে পাশে হবু বউ,আহ্ কি
আরাম..
.
আর কোনো কথা নেই,আমি ঘুমিয়ে গেলাম..
.
.
পাঠক আপনারা আর কি দেখছেন, যাও গিয়ে
ঘুুমিয়ে পরো. সবার তো আর আমার মতো হবু বউ
নেই, যে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পরবেন.
কোলবালিশ জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পরেন.
Please Rate This Post