![]() |
| পাশের বাড়ি |
অনেক দিন পর বাড়ি যাচ্ছি প্রায়
সাত
বছর হবে। অব্যসয় বাড়ি যাওয়ার
কোনো প্ল্যান ছিলোনা ভাবছিলাম
সারা জীবন ঢাকাতেই কেটে
সাত
বছর হবে। অব্যসয় বাড়ি যাওয়ার
কোনো প্ল্যান ছিলোনা ভাবছিলাম
সারা জীবন ঢাকাতেই কেটে
দিবো কিন্তু তা আর পারলাম না।
কালকে
অফিস থেকে আসার পর মনটা খুবই
খারাপ। শুধু ছটপট করছিলো। আসলে
এই কয়দিন থেকেই আমার মন দিল
খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। শুধু
পরিবারের কথা মনে পড়ে। ইদানিং
মায়ের কথা বেশি মনে পড়ে।
মায়ের চেহারাটাই আমার চোখের
সামনে ভাসে।তাই আর থাকতে
পারলাম না সাথে সাথে সায়েদা
বাস
এসে টিকিট কেটে এখন গ্রামের
উদ্দেশ্য রহনা দিলাম।
.
–আসলে সাত বছর আগে অভিমান
আর রাগ নিয়ে বাড়ি থেকে চলে
এসেছি।অভিমানের কারণ টা হলো
লম্বা ছুল লম্বা ছুল মানে মেয়ে।
আমি ছোট থেকেই মেয়েদের
কে লম্বা ছুল বলেই ডাকি।
মেয়েটির নাম হলো রুহি ।রুহির
বাড়ি
আমাদের বাড়ির পাশেই। আমি আর
রুহি
ছোট কাল থেকেই এক সঙ্গে
বড় হয়েছি।আমি রুহিকে ছোট কাল
থেকেই পছন্দ করি আর মনে
মনে ভালোবাসি। আমরা যখন
কলেজে উঠলাম তখন আমি রুহিকে
আমার ভালোবাসার কথা জানাই।
রুহি
আমার ভালোবাসাটা এক্সসেপট
করলো। রুহি ও নাকি আমাকে
ভালোবাসে এতোদিন ধরে বলে
নাই যদি আমি তার ভালোবাসা
এক্সেপেট না করি তাকে যদি ভুল
বুঝি সে কারণে এতোদিন ধরে
বলে নাই। সব সময় নাকি সুযোগের
অপেক্ষাই ছিলো।
.
তার পর থেকে আমাদের
ভালোবাসা খুব ভালো ভাবে চলতে
থাকলো।কিন্তু এই সুখ আমাদের
কপালে সইলোনা। হঠাৎ একদিন রুহি
এসে আমাকে বলে…
—রনি আমার বাবা মা আমার বিয়ে
ঠিক
করে ফেলেছে ?
সামনে সপ্তাহে আমার বিয়ে তুমি
কিছু
একটা করো তা না হলে চলো রনি
আমরা পালিয়ে যাই..?
রুহির এই কথাই আমি কি বলবো। কথা
বলার ভাষা ঠাই আমি হারিয়ে
ফেলেছি।
আমার মাথাই যেনো আকাশ
বেঙ্গে পড়লো।তবু ও আমি
নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম,
— রুহি আগে আমার বাবা মায়ের
সাথে
কথা বলে দেখি তারা যদি না
মানে
তাহলে আমরা পালিয়ে যাবো।
.
সে দিন আমি বাড়িতে গিয়ে আব্বু
আম্মু কে আমাদের ভালোবাসার
কথা জানাই কিন্তু তারা মেনে
নেয়নি।
আমাকে আব্বু আম্মু বললো যে
রনি তোর বয়স কতো এতটুকু
ছেলে বিয়ের কথা বলতে তোর
লজ্জা করে না। এখনো তোর বড়
ভাই ও বিয়ে করেনি আর তুই কিনা
এসেছিস নিজের বিয়ের কথা
বলতে।আমি আব্বু আম্মু কে বললাম
আমি তো এখন আর ছোট নেই
এখন আমি চাকরি করি আর তা ছাড়া
ভাইয়া
আর আমার বিয়েটা এক সঙ্গে হলে
কোনো সমস্যা হবে না?
আব্বু আর আম্মু বললো আমরা
এতো কিছু বুঝিনা এই সম্পর্কটা আমরা
মেনে নিতে পারবো না। আর
একেতো বাড়ির পাশের মেয়ে
যাকে আমরা ছোট থেকেই
দেখে এসেছি..।
.
অনেক বুঝানোর পর ও আমার
ফ্যামিলির কেউ রাজি হয় নি। তখন
রাগে
বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলাম।
বাহিরে এসে রুহিকে কল দিলাম
দেখা
করার জন্য।রুহি দেখা করলো আমার
সাথে।
আমি রুহিকে বললাম চলো আমরা
এখনি পালিয়ে যাবো ফ্যামিলির
কেউ
আমাদের সম্পর্কটা মেনে নিবে
না।তখন রুহি বললো..
–রনি আমি পালাতে পারবো না?
— আমি চাইনা আমার জন্য আমার
বাবা মা
কষ্ট পাক?
–আমি পারবো না আমার ফ্যামিলির
সম্মান নষ্ট করতে..?
–রনি তুমি চলে যাও আর আমি
তোমার
সাথে পালাতে পারবো না..?
–দেখ রনি তুমি আমার থেকে সুন্দর
আর খুব ভালো মেয়ে পাবে তুমি
এখন চলে যাও আর আমাকে ক্ষমা
করেরে দিও .?
.
রুহির এতো গুলো কথায় আমি শুধু
একটি কথাই বললাম। ভালোবাসার
আগে তোমার সব কিছু ভাবা উচিত
ছিলো এখন হয়তো আমার
থেকে ও ভালো উপযুক্ত পাত্র
পেয়েছো তাই তুমি এখন বাবা
মায়ের বাধ্য সন্তান হয়ে গেছো।
আরেক টা কথা সব মেয়েরা
ছেলেদের কে ঠকিয়ে শুধু একটা
কথাই বলে আমার থেকে সুন্দরী
পাত্রী আর ভালো মেয়ে পাবে।
কথা গুলো বলেই আমি চলে আসি।
বাড়িতে আর যাইনি মোবাইল টা বন্ধ
করে সিম টা বেঙ্গে ফেলে
দিয়েছি তারপর ঢাকাই চলে আসি।
সাত
বছর ধরে আর কারো সাথেই
যোগাযোগ নেই।
.
পুরোনো কথাগুলো ভাবতে
ভাবতে আমার গর্ন্তব্য গ্রামে চলে
আসলাম।এখন প্রায় সকাল ৭ টা বাজে
বাড়ির সামনে বাবা কে দেখা
যাচ্ছে।
বাবার সামনে গিয়ে পা ধরে
সালাম
করলাম। বাবা আমাকে বুকে টেনে
নিয়ে কান্নাকাটি শুরু করে দিলো।
বাবা
বললো আমাদের কথা কি তোর
একটু ও মনে পড়ে নি আমি ও
বাবাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে
লাগলাম।বাবা আমাকে ধরে
বাড়িতে
নিয়ে গেলো। উঠানে গিয়ে বাবা
সবাইকে ডাকতে শুরু করলো।
দেখলাম সবাই একে একে ঘর
থেকে বের হচ্ছে। মা আমাকে
দেখে দুরে এসে আমাকে বুকে
জড়িয়ে নিয়ে কাঁদতে লাগলো।আমি
ও কাঁদলাম বড় ভাইয়া আমাকে বুকে
জড়িয়ে নিলো। কতো দিন পর প্রিয়
মুখ গুলোকে দেখে শান্তিতে
মন ভরে গেলো।বড় ভাইয়া বিয়ে
করেছে আমাকে নিয়ে নতুন
মেহমানের মতো করে ভাবির
সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো।ভাইয়ার
দুইটি ছেলে মেয়ে আমার কাছে
আসলো আমিও কোলে তুলে
আদর করো দিলাম।
.
সেই দিন আর ঘর থেকে বের
হলাম না সারাদিন সবার সাথে কথা
বলে
কাটিয়ে দিলাম।পরের দিন সকালে
নাস্তা করে বাহিরে বের হলাম।
অনিচ্ছা সত্ত্বে ও পাশের বাড়ির
দিকে নজর দিলাম। দেখলাম রুহিকে
বাচ্চা দুইটা নিয়ে খেলা করতেছে।
পুরোনো ব্যথা আবার জেগে
ওঠলো।মনে হচ্ছে বুকের ভিতর
ভুমিক্প হচ্ছে। বুকের ভিতর চিনচিনে
ব্যথা হচ্ছে।কে যে বললো
পাশের বাড়ির মেয়ের সাথে প্রেম
করতে। পাশের বাড়ির মেয়ের
সাথে প্রেম করলে সারা জীবন
দেখে দেখে জ্বলতে হবে।
আর
জীবনে ও পাশের বাড়ির মেয়ের
সাথে প্রেম করবো না।রুহি দেখার
আগে চলে যেতে হবেএখান
থেকে। আর বিরহের আগুনে
জ্বলতে চাইনা।
কালকে
অফিস থেকে আসার পর মনটা খুবই
খারাপ। শুধু ছটপট করছিলো। আসলে
এই কয়দিন থেকেই আমার মন দিল
খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। শুধু
পরিবারের কথা মনে পড়ে। ইদানিং
মায়ের কথা বেশি মনে পড়ে।
মায়ের চেহারাটাই আমার চোখের
সামনে ভাসে।তাই আর থাকতে
পারলাম না সাথে সাথে সায়েদা
বাস
এসে টিকিট কেটে এখন গ্রামের
উদ্দেশ্য রহনা দিলাম।
.
–আসলে সাত বছর আগে অভিমান
আর রাগ নিয়ে বাড়ি থেকে চলে
এসেছি।অভিমানের কারণ টা হলো
লম্বা ছুল লম্বা ছুল মানে মেয়ে।
আমি ছোট থেকেই মেয়েদের
কে লম্বা ছুল বলেই ডাকি।
মেয়েটির নাম হলো রুহি ।রুহির
বাড়ি
আমাদের বাড়ির পাশেই। আমি আর
রুহি
ছোট কাল থেকেই এক সঙ্গে
বড় হয়েছি।আমি রুহিকে ছোট কাল
থেকেই পছন্দ করি আর মনে
মনে ভালোবাসি। আমরা যখন
কলেজে উঠলাম তখন আমি রুহিকে
আমার ভালোবাসার কথা জানাই।
রুহি
আমার ভালোবাসাটা এক্সসেপট
করলো। রুহি ও নাকি আমাকে
ভালোবাসে এতোদিন ধরে বলে
নাই যদি আমি তার ভালোবাসা
এক্সেপেট না করি তাকে যদি ভুল
বুঝি সে কারণে এতোদিন ধরে
বলে নাই। সব সময় নাকি সুযোগের
অপেক্ষাই ছিলো।
.
তার পর থেকে আমাদের
ভালোবাসা খুব ভালো ভাবে চলতে
থাকলো।কিন্তু এই সুখ আমাদের
কপালে সইলোনা। হঠাৎ একদিন রুহি
এসে আমাকে বলে…
—রনি আমার বাবা মা আমার বিয়ে
ঠিক
করে ফেলেছে ?
সামনে সপ্তাহে আমার বিয়ে তুমি
কিছু
একটা করো তা না হলে চলো রনি
আমরা পালিয়ে যাই..?
রুহির এই কথাই আমি কি বলবো। কথা
বলার ভাষা ঠাই আমি হারিয়ে
ফেলেছি।
আমার মাথাই যেনো আকাশ
বেঙ্গে পড়লো।তবু ও আমি
নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম,
— রুহি আগে আমার বাবা মায়ের
সাথে
কথা বলে দেখি তারা যদি না
মানে
তাহলে আমরা পালিয়ে যাবো।
.
সে দিন আমি বাড়িতে গিয়ে আব্বু
আম্মু কে আমাদের ভালোবাসার
কথা জানাই কিন্তু তারা মেনে
নেয়নি।
আমাকে আব্বু আম্মু বললো যে
রনি তোর বয়স কতো এতটুকু
ছেলে বিয়ের কথা বলতে তোর
লজ্জা করে না। এখনো তোর বড়
ভাই ও বিয়ে করেনি আর তুই কিনা
এসেছিস নিজের বিয়ের কথা
বলতে।আমি আব্বু আম্মু কে বললাম
আমি তো এখন আর ছোট নেই
এখন আমি চাকরি করি আর তা ছাড়া
ভাইয়া
আর আমার বিয়েটা এক সঙ্গে হলে
কোনো সমস্যা হবে না?
আব্বু আর আম্মু বললো আমরা
এতো কিছু বুঝিনা এই সম্পর্কটা আমরা
মেনে নিতে পারবো না। আর
একেতো বাড়ির পাশের মেয়ে
যাকে আমরা ছোট থেকেই
দেখে এসেছি..।
.
অনেক বুঝানোর পর ও আমার
ফ্যামিলির কেউ রাজি হয় নি। তখন
রাগে
বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলাম।
বাহিরে এসে রুহিকে কল দিলাম
দেখা
করার জন্য।রুহি দেখা করলো আমার
সাথে।
আমি রুহিকে বললাম চলো আমরা
এখনি পালিয়ে যাবো ফ্যামিলির
কেউ
আমাদের সম্পর্কটা মেনে নিবে
না।তখন রুহি বললো..
–রনি আমি পালাতে পারবো না?
— আমি চাইনা আমার জন্য আমার
বাবা মা
কষ্ট পাক?
–আমি পারবো না আমার ফ্যামিলির
সম্মান নষ্ট করতে..?
–রনি তুমি চলে যাও আর আমি
তোমার
সাথে পালাতে পারবো না..?
–দেখ রনি তুমি আমার থেকে সুন্দর
আর খুব ভালো মেয়ে পাবে তুমি
এখন চলে যাও আর আমাকে ক্ষমা
করেরে দিও .?
.
রুহির এতো গুলো কথায় আমি শুধু
একটি কথাই বললাম। ভালোবাসার
আগে তোমার সব কিছু ভাবা উচিত
ছিলো এখন হয়তো আমার
থেকে ও ভালো উপযুক্ত পাত্র
পেয়েছো তাই তুমি এখন বাবা
মায়ের বাধ্য সন্তান হয়ে গেছো।
আরেক টা কথা সব মেয়েরা
ছেলেদের কে ঠকিয়ে শুধু একটা
কথাই বলে আমার থেকে সুন্দরী
পাত্রী আর ভালো মেয়ে পাবে।
কথা গুলো বলেই আমি চলে আসি।
বাড়িতে আর যাইনি মোবাইল টা বন্ধ
করে সিম টা বেঙ্গে ফেলে
দিয়েছি তারপর ঢাকাই চলে আসি।
সাত
বছর ধরে আর কারো সাথেই
যোগাযোগ নেই।
.
পুরোনো কথাগুলো ভাবতে
ভাবতে আমার গর্ন্তব্য গ্রামে চলে
আসলাম।এখন প্রায় সকাল ৭ টা বাজে
বাড়ির সামনে বাবা কে দেখা
যাচ্ছে।
বাবার সামনে গিয়ে পা ধরে
সালাম
করলাম। বাবা আমাকে বুকে টেনে
নিয়ে কান্নাকাটি শুরু করে দিলো।
বাবা
বললো আমাদের কথা কি তোর
একটু ও মনে পড়ে নি আমি ও
বাবাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে
লাগলাম।বাবা আমাকে ধরে
বাড়িতে
নিয়ে গেলো। উঠানে গিয়ে বাবা
সবাইকে ডাকতে শুরু করলো।
দেখলাম সবাই একে একে ঘর
থেকে বের হচ্ছে। মা আমাকে
দেখে দুরে এসে আমাকে বুকে
জড়িয়ে নিয়ে কাঁদতে লাগলো।আমি
ও কাঁদলাম বড় ভাইয়া আমাকে বুকে
জড়িয়ে নিলো। কতো দিন পর প্রিয়
মুখ গুলোকে দেখে শান্তিতে
মন ভরে গেলো।বড় ভাইয়া বিয়ে
করেছে আমাকে নিয়ে নতুন
মেহমানের মতো করে ভাবির
সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো।ভাইয়ার
দুইটি ছেলে মেয়ে আমার কাছে
আসলো আমিও কোলে তুলে
আদর করো দিলাম।
.
সেই দিন আর ঘর থেকে বের
হলাম না সারাদিন সবার সাথে কথা
বলে
কাটিয়ে দিলাম।পরের দিন সকালে
নাস্তা করে বাহিরে বের হলাম।
অনিচ্ছা সত্ত্বে ও পাশের বাড়ির
দিকে নজর দিলাম। দেখলাম রুহিকে
বাচ্চা দুইটা নিয়ে খেলা করতেছে।
পুরোনো ব্যথা আবার জেগে
ওঠলো।মনে হচ্ছে বুকের ভিতর
ভুমিক্প হচ্ছে। বুকের ভিতর চিনচিনে
ব্যথা হচ্ছে।কে যে বললো
পাশের বাড়ির মেয়ের সাথে প্রেম
করতে। পাশের বাড়ির মেয়ের
সাথে প্রেম করলে সারা জীবন
দেখে দেখে জ্বলতে হবে।
আর
জীবনে ও পাশের বাড়ির মেয়ের
সাথে প্রেম করবো না।রুহি দেখার
আগে চলে যেতে হবেএখান
থেকে। আর বিরহের আগুনে
জ্বলতে চাইনা।

0 Comments