হাসপাতালের যে বেডের
হাসপাতালের যে বেডের

এখন আমি হাসপাতালের যে বেডের পাশে বসে
আছি সেই বেডে শুয়ে থাকা মেয়েটির
ক্যান্সার।ইশ্ ক্যান্সার শব্দটি

শুনেই আঁতকে
উঠলেন তাইনা। হুম সত্যিই ডাক্তারি মতে
পৃথিবীতে মেয়েটির আয়ু আর মাত্র ২ মাস ১৩
দিন। এরপরেই মেয়েটির কাছে পুরো পৃথিবীটা
হয়ে যাবে অন্ধকার। এই মূহুর্তে মেয়েটির
সবচেয়ে পছন্দের দুটি জিনিস তার সামনে আছে
একটি হলো সাদা গোলাপ আর অন্যটি তার
ভালোবাসার মানুষ।
তবুও মেয়েটির চোখে মুখে বিষন্নতা…কারন
মেয়েটির খুব ইচ্ছা ছিল একদিনের জন্য হলেও
পছন্দের মানুষের জন্য বউ সাজবে। সুস্থ থাকা
অবস্থায় মেয়েটি বার বার ছেলেটিকে তার বউ
হিসেবে দেখতে চাইলেও ক্যান্সার ধরা পরে
যাওয়ার পরে কখনই বলার সাহস করেনি। মেয়েটির
এমন একটি অদ্ভুত ইচ্ছের কথা পৃথিবীর আর
কেউ না জানলেও ছেলেটি ঠিক ই জানতো।
.
ছেলেটি কোনো কিছু চিন্তা-ভাবনা না করেই
বাসায় ফিরে গিয়ে বাবা-মা কে বিয়ের আয়োজন
করতে বলল…সবাই যখন জানতে চাইলো কনে
কে..তখন ছেলেটি অকপটে মেঘলার নামটি
বলে দেয়-সাথে এটাও বলে দেয় যে সে
ক্যান্সারে আক্রান্ত একজন রোগী।
ছেলেটির এমন কথা-বার্তায় পরিবারের লোকজন
চমকে যায়…তাকে তারা বুঝাতে চেষ্টা করে এ
কোনো দিনও সম্ভব না…একজন জিন্দা লাশের
সাথে কখনো বিয়ে মেনে নেওয়া যায়না। কিন্তু
ছেলেটার একটাই কথা বিয়ে করলে সে
মেঘলাকেই করবে এবং সেটা দুই দিনের
মধ্যেই। পরিবারের লোকজন ছেলেটাকে
বুঝাতে ব্যার্থ হয়ে বন্ধুদের দিয়ে বুঝানোর
চেষ্টা করে। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ
হয়না… আশে পাশের সবাই ছেলেটাকে পাগল
ভাবতে শুরু করে।
.
এতকিছুর পরেও ছেলেটার এক কথা বিয়ে
করলে একমাত্র মেঘলা ছাড়া অন্য কাউকে বউ
হিসেবে মানবোনা। অবশেষে ছেলের এমন
পাগলামীর কাছে হার মেনে পরিবারের
লোকজন বিয়ের আয়োজোন করতে শুরু
করে…এর পরের দিন খুব সকালে ছেলেটি ঘুম
থেকে উঠে হাসপাতালে ছুটে যায়।আস্তে
করে মেয়েটির কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিস
ফিস করে বলে-“Will You Marry me Jan.?
.
ছেলেটির এই একটি মাত্র বাক্য শোনার সাথে
সাথে মেয়েটির গাল বেয়ে দু চোখের অশ্রু
অঝড় ধারায় ঝড়তে থাকে।মাথা নাড়িয়ে বলে-
বাবুই আমার আর কিচ্ছু চাইনা… আর কিচ্ছুনা… পৃথিবীর
সব থেকে সুখী মানুষ আমি যে তোমার মত
একজনকে ভালোবাসার সুযোগ করে
দিয়েছেন আল্লাহ তা আলা। যে মানুষটা শুধু
মুখের ভাষা নয় মনের ভাষাও বুঝে নেওয়ার
ক্ষমতা রাখে। আমি সত্যিই অনেক সুখী জান-I
Really Love You..
.
–Love You too আমার ছকিনা বিবি..
.
–যাহ দুষ্টু…আমার লজ্জা করেনা বুঝি।
.
সারাদিন হাসপাতালে থেকে রাত ১০ টায় বাসায় ফিরে
যায় ছেলেটি…নিকোশ কালো রাতের
অন্ধকারে ছাদে বসে নিকোটিনের শলাকা মুখে
নিয়ে প্লাস-মাইনাসের হিসেব মিলাতে চায়
সে…হিসেব করে দেখে মেয়েটির
একদিনের ভালোবাসার কাছে তার এতো কিছুর
আয়োজন তুচ্ছ…!!
.
এ হলো সেই মেয়ে যাকে সে হাজার বকা
দিয়ে গালমন্দ করার পরেও ফিক করে হেসে
দিয়ে বলেছে তবুও শুধু তোমাকেই ভালবাসি
বাবুই।
.
এ হলো সেই মেয়ে যে তার কন্ঠ শোনার
জন্য সারাদিন পাগলের মত থাকতো…আর রাত্রি ১২
টা বাজলে ছেলেটা ফ্রি হয়ে ফোন দিলে সারা
রাত কথা বলে ভোর ৫ টায় ঘুমোতে যেত।
তবুও বিন্দু মাত্র অভিযোগ করতোনা যে
কেনো তুমি দিনে আমায় সময় দিতে পারোনা।
.
এ হলো সেই মেয়ে যার চোখের নিচে
কালো দাগ পড়ে গেছে শুধু মাত্র আমার সাথে
রাত জেগে কথা বলে…তবুও কখনো বলিনি “নাহ
আজ ঘুমাই ক্লান্ত লাগছে কাল কথা বলবোনি।”
.
এ সেই মেয়ে যে কিনা আমি কথা বলতে
বলতে কখনো রাতে ঘুমিয়ে গেলে দ্বিতীয়
বার ফোন করে জাগাতো না বা পরের দিন
কোনো অভিযোগ করেনা আমাকে লাইনে
রেখে কেনো ঘুমিয়েছিলে। আমার প্রতি
কখনো কোনো অভিযোগ ছিলনা তার।
.
এ সেই মেয়ে যখন আমি অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে
পড়েছিলাম হাসপাতালের বেডে আর সে সারাটি
রাত্রি জেগে কাটিয়ে দেয় আমার পাশে। মাঝ
রাতে যখন ব্যাথার যন্ত্রনায় চিৎকার দিয়ে উঠতাম
তখন মেয়েটি আমার কানের কাছে গিয়ে ফিস
ফিস করে বলতো ভয় পেয়োনা বাবুই..”আমি
আছি তোমার পাশে”
.
আমার সেই প্রিয় ভালবাসার মানুষটি আজ মৃত্যু
পথযাত্রী।আমি কি পারিনা তার কানের কাছে গিয়ে
এই কথা বলতে-আমি তোমার পাশে আছি জান..তুমি
একদম ভয় পেয়োনা”
.
এতে কি মানুষ আমায় পাগল বলবে.? বলুক না পাগল
তাতে কি.? সবাইতো শুধু বাহির থেকে আমার
পাগলামী টুকুই দেখেছে…কিন্তু এই দুটি বছরে
শত শত রাত জেগে মেয়েটা যে আমার জন্য
কতোটা পাগলামী করেছে…সেটা তো আর
কেউ জানেনা। ভালবাসা সব কিছুর উর্ধে…এখানে
কোনো প্লাস মাইনাসের হিসেব চলেনা।
.
পৃথিবীতে সব মানুষের কিছু প্রিয় মানুষ থাকে।
তাদেরকে দেয়া কথা গুলো পূরন করার সময়
ক্যালকুলেটোর নিয়ে প্লাস মাইনাস হিসেব
করলে চলেনা। হিসেবের ব্যাপারে সর্বদা জানা
ভাল। নাহলে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষ
তোমায় চরম ঠকাবে।
.
তবে সবাই তোমাকে ঠকানো-জিতানোর চিন্তা
নিয়ে আসেনা। কেউ আছে যে তোমার একটু
ভালোবাসার পরশ পেতে নিঃস্বার্থ ভাবে কাছে
আসে। আর তখন তার দু-চোখে কালো কাপড়
বাধা থাকে..সে শুধু তোমায় অন্ধের মত
ভালবাসতেই কাছে এসেছে..তার সাথে কখনও
লাভ-লসের হিসেব করতে যেওনা। মনে রেখ
হিসেব করে ব্যবসা হয়..ভালবাসা না।
.
বেঁচে থাকুক ভালবাসা আর টিকে থাকুক সেইসব
সম্পর্ক যারা শুধু প্রিয়জনকে নিঃস্বার্থ ভাবে
ভালবেসে যায়। এই সব মানুষগুলির কাছে কখনো
ভালবাসার বিনিময় বা হিসেব করতে যাবেন
না…তাহলে সেটি হবে আপনার জীবনের চরম
ভুল। এরা সব কিছুর বিনিময়ে চায় তার প্রিয় মানুষটি
ই আঁতকে
উঠলেন তাইনা। হুম সত্যিই ডাক্তারি মতে
পৃথিবীতে মেয়েটির আয়ু আর মাত্র ২ মাস ১৩
দিন। এরপরেই মেয়েটির কাছে পুরো পৃথিবীটা।
Please Rate This Post