মুচকি মুচকি হাসছে
মুচকি মুচকি হাসছে


ফেক আইডি থেকে বন্ধুকে মেসেজ দিলাম,
‘আপনার প্রোফাইল পিক টা তো দারুণ, খুব সুন্দর লাগছে আপনাকে।’
দূর থেকে খেয়াল করলাম বন্ধু মোবাইলের দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে আর চুলের বাঁজ ঠিক করছে।
একটু পর বন্ধু রিপ্লাই দিলো,


‘কি বলে আপনাকে ধন্যবাদ দিবো বুঝতে পারছিনা। রিকু পাঠাইছি একসেপ্ট করবেন’
‘ভাল কিছু কে তো ভালো বলতেই হবে এখানে ধন্যবাদ দেওয়ার কি আছে? আর আপনার মত একজন handsome ছেলে আমার ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা তো আমার জন্য সুভাগ্য’
এবার দেখি বন্ধু পুরা দাঁত বের করে হাসছে।
কিছুক্ষণ পর আবার মেসেজ দিলাম
‘এই মিস্টার চুপ করে আছেন কেন?’
‘আপনার প্রোফাইল পিক টা দেখছিলাম’
‘তাই নাকি?’
‘হুম’
‘তো কি দেখছিলেন?’
‘আপনিও খুব সুন্দর, একদম পরীর মত। সারাদিন চেয়ে থাকতে ইচ্ছে করে’
‘এভাবে বলবেননা প্লিজ আমার লজ্জা করে’
‘সত্যি বলছি আপনি অনেক সুন্দর’
‘এত্ত গুলো ধন্যবাদ আপনাকে’
‘একটা কথা জিগ্যেস করবো?’
‘একটা কেন, আপনার যত ইচ্ছে জিগ্যেস করুন’
‘আপনার কারো সাথে রিলেশন আছে?’
‘আমি প্রেম ভালবাসা পছন্দ করিনা। তবে আপনার মত কাউকে ফেলে ভেবে দেখতে পারি’
এবার দেখি বন্ধু মোবাইল কে কিস করতেছে। আমি ডাটা অফ করে বন্ধুর কাছে গেলাম। বন্ধু আমাকে দেখে গুণগুণ করে গান গাইতে শুরু করলো।
“প্রেম সবারি জীবনে আসে আমারও জীবনে প্রেম এসেছে। কেউ আমাকে ভালবেসেছে, কেউ আমাকে ভালবেসেছে”
আমি বন্ধুর গান শুনে হাসি চেপে রেখে বললাম,
-ঘটনা কী দোস্ত এত খুশি খুশি লাগছে কেন?
-আর বলিসনা দোস্ত আজকাল মেয়েদের জন্য ফেসবুকে ছবিও দেওয়া যায়না, খালি ক্রাশ খায়।
-হায়রে আমার কপাল! এত ছবি ফেসবুকে দিলাম আজ পর্যন্ত কেউ ক্রাশ খাইলোনা। ভালো দোস্ত চালিয়ে যা।
-দুঃখ করিসনা দোস্ত, সবাই সব কপাল নিয়ে দুনিয়াতে আসেনা।
-হো দোস্ত, তোর বেটা চান কপাল।
বন্ধু আবারো গেয়ে উঠলো,
“প্রেম সবারি জীবনে আসে, আমারো জীবনে প্রেম এসেছে। কেউ আমাকে ভালবেসেছে, কেউ আমাকে ভালবেসেছে”
তারপর নিয়মিত বন্ধুর সাথে চ্যাটিং চলতে থাকলো। বন্ধু নাম্বার চাইতে বললাম, আমার মোবাইল নেই। মাঝে মাঝে ভাইয়ার মোবাইল দিয়ে এফবিতে আসি। ভাইয়ার মোবাইল দিয়ে কথা বললে মেরে ফেলবে।
একদিন বিকেলে বন্ধুর পাশে বসে আছি। বন্ধু ফেক আইডিতে মেসেজ পাঠাইছে,
‘I love you’
আমি বন্ধুকে বললাম,
-কিরে দোস্ত কোন মেয়ের সাথে লাইন মারছ?
-আরে বেটা তুই এখনো আমাকে চিনলিনা। আমি মেয়েদের সাথে লাইন মারতে যাইনা বুঝলি, মেয়েরাই আমার সাথে লাইন মারতে আসে।
-মাশা আল্লাহ্ দোস্ত তোর পুরাই কন্যা রাশি। না সামলাতে পারলে আমাদেরও দুই একটা দিস।
-আচ্ছা ঠিক আছে দিবো, এখন যা ডিস্টার্ব করিসনা।
বন্ধুর ভাব দেইখা মনে হল বন্ধু পুরাই মজনু হইয়া গেছে। আড়ালে গিয়ে আমি রিপ্লাই দিলাম,
‘সত্যি আপনি আমাকে ভালবাসেন? আমার বিশ্বাস হচ্ছেনা’
‘সত্যি অনেক অনেক ভালবাসি’
‘I love you to আমার সোনা, আমিও তোমাকে অনেক অনেক ভালবাসি’
তারপর কয়েকদিন ফেক আইডিতে প্রেম ভালোই চলতে থাকে। বন্ধু আমাকে জোর দিতে লাগলো দেখা করার জন্য। আমিও রাজি হয়ে গেলাম। শুক্রবার বিকেলে পার্কে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় ও কে আসতে বললাম।
শুক্রবার দুপুরে বন্ধুকে মেসেজ দিলাম,
‘জান ও জান তুমি সত্যি সত্যি আসবেতো?’
‘জান তোমার সাথে দেখা করবো এই খুশিতে আমি গতকাল রাতে একটুও ঘুমাতে পারিনি।’
‘আমিও তো সকাল থেকে কিচ্ছু খাইনি, খুব নার্ভাস লাগছে কখন তোমাকে জড়িয়ে ধরবো’
‘আমার জান আমার ময়না আমি আসতেছি, এক্ষণি আসতেছি’
আমি দ্রুত পার্কে গিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় অপেক্ষা করতে লাগলাম। একটু পর দেখি বন্ধু আসতেছে। দেখে মনে হচ্ছে জীবনে প্রথম এত সাজুগুজু করছে। হাতে একটা লাল গোলাপ।
কাছে এসে আমাকে দেখে বন্ধু চমকে উঠলো। চোখ লাল করে রাগে কটমট করতে করতে বললো,
-তুই বেটা এখানে কি করছ?
আমি মুচকি হেসে লাজুক সূরে বললাম,
-কেন জান তুমিই তো বলছো এখানে আসার জন্য।
-মানে কি? কি বলতে চাইছিস তুই?
আমি হো হো করে হেসে বললাম,
-এত দিন যে সুন্দরি মেয়ের আইডিতে কাতুকুতু দেওয়া প্রেম করছিস সে আইডি টা আমার।
আমার কথা শেষ হওয়ার আগেই বন্ধু লাল গোলাপ ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে একটা লাঠি নিয়ে আমার দিকে তেড়ে আসলো। আর আমি দিক বেদিক না দেখেই মুহূর্তে সেখান থেকে ছুটে ফালালা