![]() |
| চোখে পড়তেই |
থাইয়ের কাচ ভেদ করে সূর্যের আলো
চোখে পড়তেই ঘুমটা ভেঙে গেলো।আহ কি
শান্তির ঘুম।
চোখে পড়তেই ঘুমটা ভেঙে গেলো।আহ কি
শান্তির ঘুম।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি অফিসের প্রায় সময় হয়ে
গেছে এবার উঠতে হবে।
কিন্তু এই শীতে কম্বলের ভেতর থেকে
বের হতে একদম মনে সায় দিচ্ছে না।একদমই না।
কিন্তু তবুও উঠতেই হবে।
‘
আরে আমার লুঙীটা কোই গেলো। পুরো বিছানা
খুজলাম কিন্তু লুঙী কোই।এই জন্যেই আমি
লুঙ্গী পড়তে চাই না।রাতে দেখলেও সকালে
আর খুজে পাই না।কি রকম রাগটাই না লাগতেছে
এখন।বউটাও পাশে নাই যে একটু খুজে দেবে।
‘
আমি মিষ্টি বলে আবারও ডাক দিলাম।মেয়েটা হয়তো
রান্না করছে।
ওই তো আসছে।মিষ্টি আসতেই বললাম,
-আমার লুঙ্গী টা কোই দেখছো?
-আমি কিভাবে জানবো তোমার লুঙী কোই। তুমিই
জানো।কথাটি বলেই মিষ্টি একদম মিষ্টি ঝরানো হাসি
দিল।আরে এখানে হাসির কি আছে।আমি আছি বিপদে
আর উনি হাসছে।
‘
খুজে যখন একদম হয়রান হয়ে গেলাম তখনি মিষ্টি
বললো,
-তোমার গলার দিকে তাকাও।
-আরে লুঙ্গী খুজে দাও।গলার দিকে কি।
-খুজেই তো দিচ্ছি।
আমি গলার দিকে তাকিয়ে দেখি বাবাজি আপন মনে
গলার সাথে ঝুলে আছে।কি নিষ্পাপ দেখাচ্ছে।
মনে হচ্ছে কিছুই জানে না।
এদিকে মিষ্টি হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাওয়ার অবস্থা।
মনে হচ্ছে এই লুঙ্গী বেটারে আচ্ছা মতো
ধোলাই দেই।কিন্তু তারও কোন উপাই নেই।সারাদিন
মারলেও কিছুই বলবে না।শুধু আমার মত ভদ্র
ছেলের মান সন্মান নিয়ে খেলবে।
“”
গরম পানি দিয়েছি যাও গোসল করে আসো।
‘
মিষ্টির কথায় আমি ওর দিকে তাকালাম।মেয়েটা এখনও
মিটিমিটি হাসতেছে।ফাজিল মেয়ে একটা।আবার বলে
কিনা গোসল করতে।এই শীতে আমি বড়জোর
হাত মুখ ধুতে পারি এই আর কিছু না।
‘
তোয়ালে নিয়ে ফ্রেশ হতে চলে গেলাম।উফ
কি ঠান্ডা। কোন মতে মুখে পানি দিয়ে বের
হতেই দেখি বাইরে মিষ্টি কোমরে হাত দিয়ে
দাঁড়িয়ে আছে।
আমার আর বুঝতে বাকি রইলো না যে এখন আমার
উপর দিয়ে কি হতে যাচ্ছে।
‘
মিষ্টি আমাকে টেনে একদম আবার ভেতরে নিয়ে
গেলো।আমাকে দাড় করিয়ে শাওয়ার টা ছেড়ে
দিয়ে বালতিতে রাখা গরম পানি ফেলে দিল।
‘
আরে কি করে মেয়েটা!এই ঠান্ডায় একদম জমে
বরফ হয়ে যাবো।তার উপর আবার ঠান্ডা পানি।উফ
এভাবে আর কতক্ষন। মিষ্টি আমাকে শক্ত করে
ধরে আছে যাতে সরে যেতে না পাড়ি।
‘
সুখে আমার চোখ দিয়ে টুপ করে পানি বের হয়ে
গেলো। কিন্তু এই পানি শাওয়ারের পানির সাথে
মিশে একাকার।দেখার কোন চান্স নাই।নিজে
থেকেই যদি গোসলটা করে নিতাম তাহলে গরম
পানিই পেতাম কিন্তু মেয়েটা এত রাগী যে গরম
পানি ফেলেই দিল।
“”
উফ বেচে গেলাম।মিষ্টি আমার শরীর মুছে দিয়ে
বের হয়ে গেল।অতি কষ্টে টাওয়েল টা
কোমরে জড়িয়ে বের হয়ে এসে প্যান্ট শার্ট
পড়ে নিলাম।
শীত যেন কমছেই না।কাপাকাপি অবস্থা একদম।
ব্লেজারটা দ্রুত পড়ে নিলাম।নাহ তবুও না।এদিকে
অফিসের সময় প্রায় হয়ে এসেছে।
“”
একি পাওরুটি কাপছে কেন এমন করে।কি হলো।
পাওরুটি হাতে নিতেই কাপতে শুরু করলো।তবুও
মুখে পুরে দিলাম।আরে পাওরুটি না আমার হাতই তো
কাঁপছে ঠান্ডায়।
এদিকে মেয়েটা চুপচাপ খেয়েই যাচ্ছে।আমি যে
এখন অফিসে যাব সেদিকে তার কোন খেয়ালই
নাই।
“”
আমি যখন কাঁপতে কাঁপতে দরজা খুলে বের হতে
যাব তখনি মিষ্টি পেছন থেকে এসে জড়িয়ে
ধরলো।আরে আমার কাপাকাপি তো আরও বেড়ে
গেলো।মিষ্টি এবার সামনে এসে ঠোঁটে ঠোট
লাগিয়ে দিল।এই মধুর চুম্মন কতক্ষন স্থায়ী ছিল
মনে নেই।তবে এরপর শীত অনেকটাই কমে
গিয়েছিলো।
“”
তোমাকে কত বার বলেছি সিগারেট খাবা না?
‘
মিষ্টির কথায় আমি কিছু বললাম না।আসলে বলার মতো
কিছু ছিলও না।একদম হাতে নাতে ধরা খেয়ে গেছি।
এখন যদি আমি বলি সিগারেট খাইনি তাহলে জীবনেও
বিশ্বাস করবে না।
“”
অফিসে একটা জরুরী কাজ করছিলাম তখনি মিষ্টির
ফোন এসে হাজির।ফোন ধরেই মিষ্টি বললো,
-অফিসে পৌছে ফোন দেওনি কেনো?
-আসলে ব্যালেন্স ছিল না তাই দিতে পারিনি।
-নিশ্চই কোন সুন্দরী কলিগের সাথে আড্ডা
দিতেছো।তাই ফোন দাও নি।
-আরে না।একটা জরুরী কাজ করতেছি তো তাই।
-এখনি একটা পিক তুলে আমাকে সেন্ড করো।
দেখি কি করো।
মেয়েটা এত সন্দেহ করে কেন!শুনেছি ভালবাসার
মানুষরাই সন্দেহ করে।অনেকটা নিজের জিনিস যত্ন
করে রাখার মতো।
‘
তবে মিষ্টির এমন আচরনে আমার কোন খারাপ
লাগে না।বরং বেশ উপভোগ করি। আমি একটা পিক
তুলে মিষ্টিকে সেন্ড করে দিলাম।আহ মেয়েটা
এবার শান্তিতে থাকতে পারবে একটু।
এবার আমিই মিষ্টিকে কল দিয়ে বললাম,
-দেখছো তো কোন মেয়ে নাই।জরুরী কাজ
করছিলাম।
-হুম দেখলাম তো তোমার জরুরী কাজ।টেবিলে
ওটা কি?আজ বাসায় আসো দেখাচ্ছি মজা।
কথাগুলা বলেই মিষ্টি ফোনটা কেটে দিল।আরে
টেবিলে আবার কি! আমি টেবিলের দিকে তাকাতেই
দেখি সিগারেট।তাও আবার মনে হচ্ছে এইমাত্র
খাওয়া।কিন্তু এটা এখানে কিভাবে আসলো।
‘
নিশ্চই মেহেদীর কাজ।এই শালা এই নিয়ে আমাকে
অনেক বার ফাসিয়ে দিল।ও আসবে,সিগারেট
খাবে,নিচে না ফেলে ডেক্সে রেখে চলে
যাবে।একদম ক্লিকবাজ একটা ছেলে।একে
অন্যের সাথে ঝগড়া বাধিয়ে দিয়ে নিজে মজা
নেয়।
আজ কপালে কি আছে আল্লাহই জানে।
“”
বাসায় আসতেই মিষ্টির প্রশ্ন
,তোমাকে কত বার বলেছি সিগারেট খাবা না?
মিষ্টি আবারও বললো,
-কতদিন ধরে খাওয়া হচ্ছে?
আরে যে জিনিস আমি খাই ই না সেটা কিভাবে
বলবো কতদিন ধরে খাচ্ছি।
‘
বিয়ের পর মিষ্টির মাথায় হাত রেখে বলেছিলাম আর
কোনদিন সিগারেট ছোবও না।এর পর আর সিগারেট
খাই নি।
আমি এবার মিষ্টিকে পুরো কাহিনী খুব ভালভাবেই
বুঝিয়ে বললাম কিন্তু ওর মুখ দেখে মনে হচ্ছে
এবারও বিশ্বাস করে নাই।
মিষ্টি বললো,
-আমি কিছুই শুনতে চাই না।তুমি আজ নিচে ঘুমাবা।এই নাও
বালিশ আর কিছুই পাবা না।এটাই তোমার শাস্তি।
বলে কি মেয়েটা।এই শীতে কম্বল ছাড়া আমি
মরেই যাবো।তার উপর আবার এই ঠান্ডা ফ্লোরে
ঘুমাতে হবে।আমি মিষ্টিকে বললাম,
অন্য কোন শাস্তি দেওয়া যায় না।মিষ্টির একই উত্তর
না।
“”
রাতে খেয়ে ফ্লোরেই শুয়ে পড়লাম।সাথে শুধু
একটা চাদর। এই শীতে শুধু চাদরে হয় নাকি।আমি
নিশ্চিত এইভাবে কিছুক্ষন থাকলে খুব তাড়াতাড়িই পটল
তুলবো।মানে মারা যাবো।
এসব ভাবতে ভাবতে আর কাপতে কাঁপতে কখন
যে ঘুমিয়ে পড়েছি মনেই নাই।
“”
মাঝরাতে জেগে দেখি শীত তো দুরের কথা
বেশ গরম গরম লাগছে।আরে গায়ের উপর কম্বল
আসলো কিভাবে!
আমি ঘুরতেই মনে হলো কিছু একটা আমাকে
জড়িয়ে আছে।সেটা খুব শক্ত করেই পেছন
থেকে।
‘
হুম যেটা ভাবছিলাম সেটাই।মিষ্টি জড়িয়ে ধরে
আছে।মেয়েটা রাগও করবে, শাস্তি ও দেবে
আবার নিজে নিজে কষ্টও পাবে।খুব বেশীই
ভালবাসে তো আমাকে।আমি নড়তেই মিষ্টি
বললো,
-চুপচাপ ঘুমাও।
-পেছনে কেন বুকে আসো।
-না তোমার বুক খুব শক্ত।
-তোমার মাথা রেখে নরম করে দাও।
মিষ্টি এবার ঘুরে আমার বুকে মাথা রাখে শক্ত করে
জড়িয়ে ধরলো।
আহ এখন অনেক ভাল লাগছে। আসলে কাছের
মানুষ যখন জড়িয়ে ধরে তখন অন্য রকম এক
অনুভূতী পাওয়া যায়।যেটা অন্য কারওতে পাওয়া যায় না।
আমি এবার মিষ্টির কানের কাছে মুখ নিয়ে বললাম,
-আমি সত্যি সিগারেট খাই নি।
-আমি জানি।এটা বদ মেহেদীর কাজ।তুমি ঘুমানোর
পরে তোমার ফোনে মেসেজ এসেছিল
মেহেদীর।
-কি লেখা ছিল?
-আদর আর কত খাবি এবার একটু ঝাড়ি খা।
আমি আর কিছু বললাম না।তার মানে মিষ্টি এখন সব
জেনে গেছে।ওকে আর বুঝাতে হবে না।
মিষ্টি আমাকে জড়িয়ে ধরেই বললো,
-সরি।আর এমন হবে না।
আমি কিছু না বলে মিষ্টিকে আরও শক্ত করেই
জড়িয়ে ধরলাম।আর মনে মনে বললাম, মেয়েটা
রাগী হলেও ভালবাসতে জানে।
গেছে এবার উঠতে হবে।
কিন্তু এই শীতে কম্বলের ভেতর থেকে
বের হতে একদম মনে সায় দিচ্ছে না।একদমই না।
কিন্তু তবুও উঠতেই হবে।
‘
আরে আমার লুঙীটা কোই গেলো। পুরো বিছানা
খুজলাম কিন্তু লুঙী কোই।এই জন্যেই আমি
লুঙ্গী পড়তে চাই না।রাতে দেখলেও সকালে
আর খুজে পাই না।কি রকম রাগটাই না লাগতেছে
এখন।বউটাও পাশে নাই যে একটু খুজে দেবে।
‘
আমি মিষ্টি বলে আবারও ডাক দিলাম।মেয়েটা হয়তো
রান্না করছে।
ওই তো আসছে।মিষ্টি আসতেই বললাম,
-আমার লুঙ্গী টা কোই দেখছো?
-আমি কিভাবে জানবো তোমার লুঙী কোই। তুমিই
জানো।কথাটি বলেই মিষ্টি একদম মিষ্টি ঝরানো হাসি
দিল।আরে এখানে হাসির কি আছে।আমি আছি বিপদে
আর উনি হাসছে।
‘
খুজে যখন একদম হয়রান হয়ে গেলাম তখনি মিষ্টি
বললো,
-তোমার গলার দিকে তাকাও।
-আরে লুঙ্গী খুজে দাও।গলার দিকে কি।
-খুজেই তো দিচ্ছি।
আমি গলার দিকে তাকিয়ে দেখি বাবাজি আপন মনে
গলার সাথে ঝুলে আছে।কি নিষ্পাপ দেখাচ্ছে।
মনে হচ্ছে কিছুই জানে না।
এদিকে মিষ্টি হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাওয়ার অবস্থা।
মনে হচ্ছে এই লুঙ্গী বেটারে আচ্ছা মতো
ধোলাই দেই।কিন্তু তারও কোন উপাই নেই।সারাদিন
মারলেও কিছুই বলবে না।শুধু আমার মত ভদ্র
ছেলের মান সন্মান নিয়ে খেলবে।
“”
গরম পানি দিয়েছি যাও গোসল করে আসো।
‘
মিষ্টির কথায় আমি ওর দিকে তাকালাম।মেয়েটা এখনও
মিটিমিটি হাসতেছে।ফাজিল মেয়ে একটা।আবার বলে
কিনা গোসল করতে।এই শীতে আমি বড়জোর
হাত মুখ ধুতে পারি এই আর কিছু না।
‘
তোয়ালে নিয়ে ফ্রেশ হতে চলে গেলাম।উফ
কি ঠান্ডা। কোন মতে মুখে পানি দিয়ে বের
হতেই দেখি বাইরে মিষ্টি কোমরে হাত দিয়ে
দাঁড়িয়ে আছে।
আমার আর বুঝতে বাকি রইলো না যে এখন আমার
উপর দিয়ে কি হতে যাচ্ছে।
‘
মিষ্টি আমাকে টেনে একদম আবার ভেতরে নিয়ে
গেলো।আমাকে দাড় করিয়ে শাওয়ার টা ছেড়ে
দিয়ে বালতিতে রাখা গরম পানি ফেলে দিল।
‘
আরে কি করে মেয়েটা!এই ঠান্ডায় একদম জমে
বরফ হয়ে যাবো।তার উপর আবার ঠান্ডা পানি।উফ
এভাবে আর কতক্ষন। মিষ্টি আমাকে শক্ত করে
ধরে আছে যাতে সরে যেতে না পাড়ি।
‘
সুখে আমার চোখ দিয়ে টুপ করে পানি বের হয়ে
গেলো। কিন্তু এই পানি শাওয়ারের পানির সাথে
মিশে একাকার।দেখার কোন চান্স নাই।নিজে
থেকেই যদি গোসলটা করে নিতাম তাহলে গরম
পানিই পেতাম কিন্তু মেয়েটা এত রাগী যে গরম
পানি ফেলেই দিল।
“”
উফ বেচে গেলাম।মিষ্টি আমার শরীর মুছে দিয়ে
বের হয়ে গেল।অতি কষ্টে টাওয়েল টা
কোমরে জড়িয়ে বের হয়ে এসে প্যান্ট শার্ট
পড়ে নিলাম।
শীত যেন কমছেই না।কাপাকাপি অবস্থা একদম।
ব্লেজারটা দ্রুত পড়ে নিলাম।নাহ তবুও না।এদিকে
অফিসের সময় প্রায় হয়ে এসেছে।
“”
একি পাওরুটি কাপছে কেন এমন করে।কি হলো।
পাওরুটি হাতে নিতেই কাপতে শুরু করলো।তবুও
মুখে পুরে দিলাম।আরে পাওরুটি না আমার হাতই তো
কাঁপছে ঠান্ডায়।
এদিকে মেয়েটা চুপচাপ খেয়েই যাচ্ছে।আমি যে
এখন অফিসে যাব সেদিকে তার কোন খেয়ালই
নাই।
“”
আমি যখন কাঁপতে কাঁপতে দরজা খুলে বের হতে
যাব তখনি মিষ্টি পেছন থেকে এসে জড়িয়ে
ধরলো।আরে আমার কাপাকাপি তো আরও বেড়ে
গেলো।মিষ্টি এবার সামনে এসে ঠোঁটে ঠোট
লাগিয়ে দিল।এই মধুর চুম্মন কতক্ষন স্থায়ী ছিল
মনে নেই।তবে এরপর শীত অনেকটাই কমে
গিয়েছিলো।
“”
তোমাকে কত বার বলেছি সিগারেট খাবা না?
‘
মিষ্টির কথায় আমি কিছু বললাম না।আসলে বলার মতো
কিছু ছিলও না।একদম হাতে নাতে ধরা খেয়ে গেছি।
এখন যদি আমি বলি সিগারেট খাইনি তাহলে জীবনেও
বিশ্বাস করবে না।
“”
অফিসে একটা জরুরী কাজ করছিলাম তখনি মিষ্টির
ফোন এসে হাজির।ফোন ধরেই মিষ্টি বললো,
-অফিসে পৌছে ফোন দেওনি কেনো?
-আসলে ব্যালেন্স ছিল না তাই দিতে পারিনি।
-নিশ্চই কোন সুন্দরী কলিগের সাথে আড্ডা
দিতেছো।তাই ফোন দাও নি।
-আরে না।একটা জরুরী কাজ করতেছি তো তাই।
-এখনি একটা পিক তুলে আমাকে সেন্ড করো।
দেখি কি করো।
মেয়েটা এত সন্দেহ করে কেন!শুনেছি ভালবাসার
মানুষরাই সন্দেহ করে।অনেকটা নিজের জিনিস যত্ন
করে রাখার মতো।
‘
তবে মিষ্টির এমন আচরনে আমার কোন খারাপ
লাগে না।বরং বেশ উপভোগ করি। আমি একটা পিক
তুলে মিষ্টিকে সেন্ড করে দিলাম।আহ মেয়েটা
এবার শান্তিতে থাকতে পারবে একটু।
এবার আমিই মিষ্টিকে কল দিয়ে বললাম,
-দেখছো তো কোন মেয়ে নাই।জরুরী কাজ
করছিলাম।
-হুম দেখলাম তো তোমার জরুরী কাজ।টেবিলে
ওটা কি?আজ বাসায় আসো দেখাচ্ছি মজা।
কথাগুলা বলেই মিষ্টি ফোনটা কেটে দিল।আরে
টেবিলে আবার কি! আমি টেবিলের দিকে তাকাতেই
দেখি সিগারেট।তাও আবার মনে হচ্ছে এইমাত্র
খাওয়া।কিন্তু এটা এখানে কিভাবে আসলো।
‘
নিশ্চই মেহেদীর কাজ।এই শালা এই নিয়ে আমাকে
অনেক বার ফাসিয়ে দিল।ও আসবে,সিগারেট
খাবে,নিচে না ফেলে ডেক্সে রেখে চলে
যাবে।একদম ক্লিকবাজ একটা ছেলে।একে
অন্যের সাথে ঝগড়া বাধিয়ে দিয়ে নিজে মজা
নেয়।
আজ কপালে কি আছে আল্লাহই জানে।
“”
বাসায় আসতেই মিষ্টির প্রশ্ন
,তোমাকে কত বার বলেছি সিগারেট খাবা না?
মিষ্টি আবারও বললো,
-কতদিন ধরে খাওয়া হচ্ছে?
আরে যে জিনিস আমি খাই ই না সেটা কিভাবে
বলবো কতদিন ধরে খাচ্ছি।
‘
বিয়ের পর মিষ্টির মাথায় হাত রেখে বলেছিলাম আর
কোনদিন সিগারেট ছোবও না।এর পর আর সিগারেট
খাই নি।
আমি এবার মিষ্টিকে পুরো কাহিনী খুব ভালভাবেই
বুঝিয়ে বললাম কিন্তু ওর মুখ দেখে মনে হচ্ছে
এবারও বিশ্বাস করে নাই।
মিষ্টি বললো,
-আমি কিছুই শুনতে চাই না।তুমি আজ নিচে ঘুমাবা।এই নাও
বালিশ আর কিছুই পাবা না।এটাই তোমার শাস্তি।
বলে কি মেয়েটা।এই শীতে কম্বল ছাড়া আমি
মরেই যাবো।তার উপর আবার এই ঠান্ডা ফ্লোরে
ঘুমাতে হবে।আমি মিষ্টিকে বললাম,
অন্য কোন শাস্তি দেওয়া যায় না।মিষ্টির একই উত্তর
না।
“”
রাতে খেয়ে ফ্লোরেই শুয়ে পড়লাম।সাথে শুধু
একটা চাদর। এই শীতে শুধু চাদরে হয় নাকি।আমি
নিশ্চিত এইভাবে কিছুক্ষন থাকলে খুব তাড়াতাড়িই পটল
তুলবো।মানে মারা যাবো।
এসব ভাবতে ভাবতে আর কাপতে কাঁপতে কখন
যে ঘুমিয়ে পড়েছি মনেই নাই।
“”
মাঝরাতে জেগে দেখি শীত তো দুরের কথা
বেশ গরম গরম লাগছে।আরে গায়ের উপর কম্বল
আসলো কিভাবে!
আমি ঘুরতেই মনে হলো কিছু একটা আমাকে
জড়িয়ে আছে।সেটা খুব শক্ত করেই পেছন
থেকে।
‘
হুম যেটা ভাবছিলাম সেটাই।মিষ্টি জড়িয়ে ধরে
আছে।মেয়েটা রাগও করবে, শাস্তি ও দেবে
আবার নিজে নিজে কষ্টও পাবে।খুব বেশীই
ভালবাসে তো আমাকে।আমি নড়তেই মিষ্টি
বললো,
-চুপচাপ ঘুমাও।
-পেছনে কেন বুকে আসো।
-না তোমার বুক খুব শক্ত।
-তোমার মাথা রেখে নরম করে দাও।
মিষ্টি এবার ঘুরে আমার বুকে মাথা রাখে শক্ত করে
জড়িয়ে ধরলো।
আহ এখন অনেক ভাল লাগছে। আসলে কাছের
মানুষ যখন জড়িয়ে ধরে তখন অন্য রকম এক
অনুভূতী পাওয়া যায়।যেটা অন্য কারওতে পাওয়া যায় না।
আমি এবার মিষ্টির কানের কাছে মুখ নিয়ে বললাম,
-আমি সত্যি সিগারেট খাই নি।
-আমি জানি।এটা বদ মেহেদীর কাজ।তুমি ঘুমানোর
পরে তোমার ফোনে মেসেজ এসেছিল
মেহেদীর।
-কি লেখা ছিল?
-আদর আর কত খাবি এবার একটু ঝাড়ি খা।
আমি আর কিছু বললাম না।তার মানে মিষ্টি এখন সব
জেনে গেছে।ওকে আর বুঝাতে হবে না।
মিষ্টি আমাকে জড়িয়ে ধরেই বললো,
-সরি।আর এমন হবে না।
আমি কিছু না বলে মিষ্টিকে আরও শক্ত করেই
জড়িয়ে ধরলাম।আর মনে মনে বললাম, মেয়েটা
রাগী হলেও ভালবাসতে জানে।

0 Comments