ভালবাসি বলে- bhalobasi bole
ভালবাসি বলে


বসে আছি।চুপটি মেরে আফিয়ার পাশে
বসে আছি।দুনিয়ার একমাত্র এই মেয়ের
পাশেই বসে থাকতে আমার এত ভাল
লাগে যে বলে বোঝাতে পারব নাহ।আর
ভালবাসা?সেটা আমি


আর আমার
সৃস্টিকর্তা জানে।আজ কি যেন বলতে
আমাকে ডেকেছে।যদিও আমি জানি এই
ডাকার মানে কি।আমিযে আগে থেকেই
আফিয়ার মন বুঝতে পারি।ওর সব অনুভুতি
আমার যে চেনা।ওর সব ভালবাসা আর
ভাললাগা মিলে আমাকে সব বুঝতে
বাধ্য করে।তবুও আজকের এই ভালবাসাটা
আমার কাছে অন্যরকম লাগছে।কেমন
জানি আমাকে অসস্তিতে ভোগাচ্ছে।
আর বার বার আমার মনটা কেঁপে কেঁপে
উঠছে।
.
–আমি তোমাকে কেন ডেকেছি তুমি
জানো?(আফিয়া)
–হা জানিতো।তোমার সব কিছুই যে
আমার অজানা নয়।
–আসলে আমি আর পারছিনা।নিজের
মনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে করতে আমি
ক্লান্ত।
–তুমি ক্লান্ত নও।তোমার ভালবাসা
ক্লান্ত।নতুন সুখের খোজে ক্লান্ত।
–কেমনে জানলে?
–বললাম তো তোমার সব যে আমার
জানা।
.
দুইজনই চুপ করে আছি।নিরবতার চুপ।এই চুপ
থাকার মানে আমি বুঝি।আফিয়া আমার
প্রতি আর সেই ফিলিংস খুজে পাইনা।
সে নতুন করে সুখ খুজে নিতে ব্যাস্ত।আমি
কি তার সুখের পথে কাটা হতে পারি?
পারিনা।তাই নিজের সব ভাল লাগা আর
ভালবাসা উজার করেই ওকে
ভালবেসেছি।কাছে এনেছি।কিন্তু দিন
শেষে বুঝতে পারলাম ভাগফল শুন্য।
ভালবাসার ঝুলির তলাই যে ফুটা তাই
ভালবাসার ঝুলি যে আমার খালি।
.
–চুপ করে আছো কেন?কিছুতো বল।
.
বাস্তবে ফিরলাম আফিয়ার ডাকে।
আফিয়া আমাকে কিছু বলতে বলছে।
কিন্তু আমার যে বলার ভাষা নাই।
যে ভাষা হারিয়ে ফেলেছি কিছু
সময় আগে।আমার সাথে নাকি
আফিয়া আর মানিয়ে নিতে
পারছে নাহ।তাই আমাকে কিছু
বলতে বলছে।
.
–কি যেন বলছিলে?(আমি)
–বললাম যে আর তো কথা বা দেখা
হবেনা,তাহলে কিছুতো বল।
–নাহ।আজকে আমার কিছু বলার নেই।
আজ তুমি বলবে আর আমি শুনব।
–আচ্ছা তাহলে ভাল থেক।আর
পারলে নিজেকে গুছিয়ে নিও।
–ভালতো থাকবোই।আর গুছিয়েও
নিব।কারন তোমার ভালবাসা যে
আমাকে ভাল রাখবেই।
–আমি জানি তুমি ভাল থাকবে
না,তবুও নিজের মত করে চেষ্টা
কইরো।
–আচ্ছা।
.
আফিয়া চলে যাচ্ছে।আমার সাথে
সব শেষ করে চলে যাচ্ছে।এত
দিনের জমানো ভালবাসা সে
শেষ করে দিয়ে যাচ্ছে বাকি
জীবনটা সুখে থাকার জন্যে।আমার
সাথে নাকি সে সুখি হবেনা।
দুনিয়ায় সবাই ভাল থাকতে চাই
কিন্তু কেও ভাল রাখতে চাইনা।
.
ভাবতেও পারছি না আফিয়া এরকম
কিছু বলবে।এই কি আমার সেই
আফিয়া যে সবসময় আমার কেয়ার
করত।কেমন আছি,কোথায় আছি,কি
খেয়েছি,কখন খেয়েছি- এসব ফোন
করে জানতে চাইত।আমি কি তাকে
চিনতে ভুল করলাম।অনেক বেশিই
ভালবেসেছিলাম
তাকে,ভেবেছিলাম সেও বাসে।
.
কড়া রোদের মধ্যে হাটছি।অনেক
রোদ।তবুও এই রোদ আমার মনের
রোদের কাছে কিছুই নাহ।
চারিদিকে এত আলো আর এত মানুষ
যে এসবের মাঝেও কেন জানি
চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে গেল।
কোনদিনো আমার এই চোখের
পানির দাম পাইনি।আর আজকেও
যে এই ভাবে মুল্যহীন হয়ে যাবে
ভাবিনি।
.
সব শেষ করে দিলেও অন্যদিনের মতও
আজকে আফিয়াকে দেখলাম।কিন্তু
আজকের এই দেখার মাঝে কিছুটা
পরিবর্তন না থাকলেও অনেক
পরিবর্তন।এই পরিবর্তনের মানে
কিছুটা হলেও আচ করতে পারলাম।আমার
আফিয়া অন্যজনের হাত ধরে ঘুড়ে
বেড়াচ্ছে?তাও আবার আমার কিছুটা
সামনে দিয়ে।যদিও আমাকে দেখেনি।
এসব দেখে চোখটা ভিজে গেল।কান্নায়
ভিজে গেল।আর এই কান্নায় আমাকে
মনে করিয়ে দিল সেদিনের সেই ঘুম
পাড়ানোর মুহুর্তের কথা।যা আমি ভাবি
আর হাসি।
.
–আমাকে একটু ঘুম পারিয়ে দিবে?
–তুমিতো একাও পারো।
–একা পারলেও যে ভালবাসার
মানুষের থেকে ভালবাসা পেতে
ভাল লাগে।
–আচ্ছা কাছে আসো।
–এসেছি তো।
–আমি এখন আমার আফিয়ার মাথায়
আস্তে আস্তে হাত বুলিয়ে দিচ্ছি
আর চুলে বিনি কেটে দিচ্ছি।
–আমমমম(হুম)
–আচ্ছা ভাল লাগছে না তোমার?
–খুব ভাল লাগছে।
–আমি তোমার বুকে মাথা দিই আর
তুমি আমাকে আবার আদর করে ঘুম
পারিয়ে দাও।
–আমি আবার আফিয়ার মাথায় হাত
বুলিয়ে দিচ্ছি,আবার বিনি
কেটেও দিচ্ছি।
–উমমমম।
.
আফিয়াকে এই ভাবেই প্রতিদিন
আমাকে ফোনের এইপাশ থেকে ঘুম
পারিয়ে দিতে হত।ওর প্রতি আমার
খুব টান অনুভব হত।কেন জানি ওর সাথে
কথা বলতে আমার অনেক অনেক ভাল
লাগত।এটাই হয়ত আমার ভালবাসা ছিল।
.
এই আফিয়াকে ঘুম পারিয়ে না দিলে
ঘুমাতোই নাহ।আজ সেই আফিয়ায় অন্যের
হাত ধরে?নাহ আর দেখতে পারছি নাহ।
বার বার একি কাহিনি আর একি মধুর
স্মৃতি মনে পরছে,যে স্মৃতি আমি এখন
বালিসের মাঝে হাতড়িয়ে বেড়ায়।যে
স্মৃতি মনে পড়লে আমার বুকটা ছ্যাত
করে উঠে আর হু হু করে কাদে।আমার এই
কান্নাই সাক্ষি দেই,
হা আফিয়ে ভাল আছে।অন্যের বুকে
মাথা রেখে নতুন সপ্ন নিয়ে ভাল আছে
Please Rate This Post