![]() |
| সময়টা খারাপ হওয়ার |
ক্লাস নাইন টেনে থাকতে বেশীর ভাগ
ছেলে মেয়েরা ভুল করে। এই সময়টা খারাপ
হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অল্পতেইই মন গলে যায়। ভাল
মন্দ বিচার করার মতো মন বড় হয়না। আমি যখন ক্লাস
নাইনে পড়তাম । আমার কিছু বান্ধবীরা এসে বললো
তোকে ওই ছেলে খুব ভালবাসে।কিন্তু
তোকে কিছু বলতে পারেনা।
ছেলে মেয়েরা ভুল করে। এই সময়টা খারাপ
হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অল্পতেইই মন গলে যায়। ভাল
মন্দ বিচার করার মতো মন বড় হয়না। আমি যখন ক্লাস
নাইনে পড়তাম । আমার কিছু বান্ধবীরা এসে বললো
তোকে ওই ছেলে খুব ভালবাসে।কিন্তু
তোকে কিছু বলতে পারেনা।
—আমি কিছু বলি না, ওই ছেলে শুধু তাকিয়ে
থাকতো। আমি দেখতে শ্যাম বর্নের ছিলাম, তবে
সবাই কেন জানি খুব পছন্দ করতো, চুপচাপ বেশী
থাকতাম।
.
ছেলেটা খুব সুন্দর ছিলো। যদিও আমি কথা বলতে
চাইতাম না।প্রতি দিন একটু একটু দেখে আমারও ভাল
লাগে। কিভাবে যেনো ওই ছেলের সাথে কথা
বলেছি। এই সময়গুলো তে ভাল খারাপ বুঝার মতো
মন হয়না।
.
.
—কিছু দিন পর থেকে অভির সাথে কথা বলতাম। অভি
সেই ছেলেটার নাম। আমরা একই সাথে পড়তাম,
তবে ক্লাস প্রাইভেটে দেখা হইলে যতটুকু কথা
হতো। এটুকুর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। আমরা
ফোনে কথা বলতাম না।
.
— আমার বাবা আমাকে খুব ভালবাসতো যার তুলনা হয়না।
আমি একটু বেশী অসুস্থ থাকতাম তাই বাবা বেশী
ভালবাসতো।
.
আমাদের পরিবার ছিলো অভির পরিবার থেকে
উন্নত। আমাদের রিলেশন কখনো মেনে নিবে
না। কারণ আমাদের পরিবারে আমাদের কোন
কাজিনের প্রেম মেনে নেয়নি। সেটাই ভয়
ছিলো অভির সাথে সেরকম মিশতামনা। কিন্তু কখন
যেনো অভিকে খুব ভালববেসে ফেলি।
.
.
—-এভাবে দুবছর পার হয়ে যায়। অভির সাথে ওই
দেখা হইলে যতটুকু কথা হতো। এসএসসি পরীক্ষা
পরে রিলেশনের কথা আমার পরিবার জানতে পারে।
.
আমার হার্টের প্রবলেম ছিলো কেউ উচ্চস্বরে
অথবা আঘাত করে কথা বললেই?? আমি সেন্সলেস
হয়ে যায়, অসুস্থতা বেড়ে যায়। আমার বাবা যখন
জানতে পারে আমাকে ডেকে বলে। মা তুমি কি
অভিকে ভালবাসো???
.
.
—-আমি মাথা নিচু করে বললাম জী বাবা ।
—আমার বাবা বললো তুমি ওর সাথে সুখী হবে
মনে করো????
—আমি মাথা ইশারা করলাম।
—ঠিক আছে তোমরা পড়াশোনা করো। আগে
প্রতিষ্ঠিত হও। তারপর বিয়ে দিবো। আর অভিকে
আমার সাথে কথা বলতে বলো।
—আমি জানি আমার বাবা খুব কষ্ট পেয়েছে।
আমাকে অতিরিক্ত ভালবাসে তাই আমার চাওয়া গুলো
পূরন করবে। বাবাকে কষ্ট দিয়ে ভাল লাগছেনা।
এখন মনে হচ্ছে ভুল করেছি। তবু অভির কথা মনে
পরাতে আবার বাবার কথা ভুলে যায়।
.
—-আমাদের রেজাল্ট বের হয়। দুজনই ভাল
রেজাল্ট করি। রেজাল্ট পরে দুজনই টেক্সটাইলে
চান্স পায়। কিন্তু ওর সাবজেক্ট আর আমার
সাবজেক্ট আলাদা হয়, ওখানেই দুজন ভর্তি হয়ে যায়।
দুজনই হোস্টেলে থাকতাম।
.
.
—-অভি খুব রাগি ছিলো। হ্যাঁ আমি জানি আমাকে খুব
ভালবাসে, কিন্তু আমাদের ঝগড়া হইলে আমার বাবার
কাছে কল দিবে। আপনার মেয়ে আমার সাথে কথা
বলছে না। হেনতেন অনেক কিছু। এগুলো আমার
ভাল লাগতোনা। আমি শুনে অভিকে রাগ করতাম। অভি
বলতো সরি তুমি কথা বলছিলানা, তাই মাথা ঠিক কাজ
করছিলোনা। আবার সব ঠিক হয়ে যেতো।
.
.
—আমার ক্লাসে একটা ছেলে ফেন্ড ছিলো। ওর
সাথে সব কিছু শেয়ার করতাম। ওর নাম শিশির। শিশির খুব
ভাল ছাত্র ছিলো। কিন্তু শিশির কারও সাথে মিশতোনা
শুধু আমার সাথে মিশতো। শিশির আমাকে সব
কিছুতেই হেল্প করতো। আমি শুধু বলবো এটা
লাগবে সাথে সাথে এনে দিবে। এই আমি এটা
বুঝতিছিনা একটু বুঝায়ে দিতে হবে। ও সুন্দর করে
বুঝিয়ে দিতো। তবে ওকে যাস্ট গুড ফেন্ডই
ভাবতাম এর বেশি কিছু না। শিশিরের কাছে অভির গল্প
করতাম,শিশির আমার আর অভির বিষয়ে সব কিছু
জানতো।
.
.
—শিশিরের একটা দোষ ছিলো। ও আমার সাথে ছাড়া
কারও সাথে মিশতোনা।ও তো খুব সুন্দর এবং
ব্রিলিয়ান্ট ইস্টুডেন্ট ছিলো। অনেক মেয়েরা ওর
সাথে মিশতে চাইতো কিন্তু শিশির এভোয়েড
করতো। যার জন্য সবাই ভাবতো শিশির আর আমার
সম্পর্ক আছে। এটা এক সময় ক্লাসে প্রকাশ হয়ে
গেলো। কিন্তু এই কথা গুলো আমি শিশির কেউ
জানতাম না।
.
—হটাৎ অভির কানে এই কথা গুলো পৌঁছে। অভি আমার
ক্লাস রুমের সামনে আসে। ওই সময় আমি ক্লাস
থেকে বের হচ্ছিলাম। আমাকে দেখে অভি একটা
থাপ্পড় মারে।
.
–আমি থাপ্পোড় খেয়ো হাসছি, কি ব্যপার তুমি আমার
সাথে ফান করছো??আমার কোন কথার জবাব না
দিয়ে।
.
— অভি বলে উঠে তুই এখন নতুন প্রেম করিস।
আমাকে বললি তো পারতি। আমি জয়েন করে দিতাম।
তুই তুই করে অনেক কথা শুনায়। আমি শুধু এটুকু
বললাম অভি আমি কিছু বুঝতেছিনা,আসলে আমার কি
দোষ?আমি তো কিছুই জানি না।
.
.
—ও এখন তো বুঝবিনা, তোর শিশির নামের
ছেলের সাথে নতুন সম্পর্ক হয়ছে। মনে করছিস
আমি জানি না????
.
— আমি তখন ক্লিয়ার হলাম আসলে কি হয়েছে???
এগুলো বলেই অভি চলে গেলো। আমি পিছুন
থেকে অভিকে ডাকলাম কিন্তু অভি তা শুনলোনা।
.
.
—-অভি সাথে সাথে আমার বাবার কাছে কল দিয়ে
বলছে আপনি যদি আপনার মেয়েকে বিয়ে না
দেন??? তাহলে ওকে আমি তুলে নিয়ে যাব। আমার
বাবা কিছু না বলে ফোন কেটে দেয়।
.
.
—এদিকে অভির এরকম বিহেভ আমার খুব কষ্ট হয়।
মনে হচ্ছে আর সম্পর্ক টা টিকবে না। সারারাত
কেউ কাউকে কল দেইনা। সকালে দেখি অভি কল
দিছে। দিয়ে বলছে ক্যাম্পাসে দেখা করো। আমি
বললাম ঠিক আছে। ও যে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার
করছে তা ভুলে যেয়ে, আমি অভির সাথে দেখা
করতে যায়।
.
.
—-অভিকে বলি দেখো অভি, শিশির শুধু আমার ভাল
বন্ধু এর বেশি কিছু না। অভি বলে ঠিক আছে তুমি
প্রমিজ করো আর শিশিরের সাথে যোগাযোগ
করবে না। প্রয়োজন ছাড়া শিশিরের সাথে কথা
বলবেনা। আর আমাকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করবে
না।
.
আমি বললাম ঠিক আছে। কখনো যোগাযোগ
করবোনা। আর আমার বাবা তোমার সাথে বিয়ে
দিলে আমি তোমাকে ছাড়া কাউকে বিয়ে
করবোনা।
.
—এভাবে আবার সম্পর্ক টা ঠিক হলো। সেদিনের
সেই ঘটনার পর থেকে শিশির নিজেই আমার সাথে
যোগাযোগ করেনি। আমি শিশির কে ডাক দিতাম
কোন কিছু দরকার হলে। কিন্তু শিশির তা শুনতোনা।
.
পরে এক ফেন্ডের কাছে জানতে পারি। যেদিন
অভি আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করছে। অভি দূর
থেকে সব কিছু দেখছে। তাই শিশির চাইনা ওর
কারনে আমি কোন কষ্ট পায়?? শিশিরের কারনে
অভি আমাকে থাপ্পড় দিছে এটা শিশির মেনে নিতে
পারেনি,তাই শিশির চাইনা আমি ওর কারনে আর কষ্ট পাই
।
.
.
—শিশির আমার খুব ভাল বন্ধু ছিলো। ভাল একটা বন্ধু
হারিয়ে ফেললাম। এভাবেই দিন যাচ্ছিল। আমি বাসায় যায়
বাবা বলে অভি ফোন করে আমাকে এসবব বলে।
.
— আমি অভির কথা শুনে অবাক হয়।অভি এরকমই বারবার
করতো একটু ঝগড়া হইলে আমার বাবাকে জানাতো।
অভি তাই বাবাকে তুলে নিয়ে যাবে এসব বলতে
পারে??
.
—আমার বাবা এখন অভিকে সেভাবে দেখতে
পারেনা।
.
.
—ডিপ্লোমা কম্পিলিট করার পরে। অভি আমার বাবাকে
বলে এখন বিয়ে দিতে। বাবা যদিও বলতো বিএসসি
কম্পিলিট করার পরে কিন্তু অভি বলছে, তাই আর কিছু
বলেনা। এদিকে অভির মা বলে যদি আমার পরিবার
থেকে দশলাখ টাকা দেয় তাহলে বিয়ে দিবে।
.
–এ আবার কেমন কথা??? হ্যাঁ আমার মা এর কথা আমার
একটাই মেয়ে একটা ছেলে। সব ধন সম্পদ তো
ওরাই নিবে। বিয়ের আগেই কেন ওরা চাইবে???
আমি আমার মেয়েকে কি দেয় সেটা আগে
দেখুক????
.
–অভি আবার অভির মা কে সাপোর্ট করতো। মা
যেটা বলবে সেটাই। অভির মা কে সাপোর্ট
করতে নিষেধ করছি না। কিন্তু এই ব্যপার টাতে
কিভাবে সাপোর্ট করলো??
.
—আর আমাকে বলতো সব সময় আমার মার মন
জুগিয়ে চলবে। যদি কোন দিন আমার মা এর মন
থেকে বের হও?? সেদিন আমার মন থেকে
বের হয়ে যাবে। অভি খুবি রাগি একটা ছেলে। হ্যাঁ
আমি কখনো খারাপ ব্যবহার করবোনা। কিন্তু
মানুষতো ভুল করে?? ভুলের মাশুল কি আমাকে
ত্যাগ করে দিবে???
.
—সে যায় হোক আমার বাবা আমাকে এসে
বললো।আমি অভির সাথে তোমার বিয়ে দিবো।
তুমি যেহেতু অভির সাথে অনেক সুখী হবে তুমি
বলছো। কিন্তু আমি বাপ হয়ে বলছি। ওই ছেলে
তোমাকে সুখী রাখতে পারবে না। যে বিয়ের
আগেই রাগারাগি করে আমাকে কল দিয়ে সব উল্টা
পাল্টা বলে।
.
–তুমি চাও তাই বিয়ে টা দিবো। আমি তোমার বিয়ে
খুব ধুমধামে দিবো কিন্তু বিয়ের পরে তোমার
সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক থাকবে না। তুমি আর
কোন দিনো আমার বাসায় পা রাখতে পারবে না।
.
.
—-আমি এই কথা শুনে কি উত্তর দিবো???? বাবা মা
তো কখনো সন্তানের খারাপ চাইনা। আমি যদি
অভিকে বিয়ে করি আমার কোন কষ্ট হইলে বাবা মার
সাথে শেয়ার করতে পারবোনা। বাট বাবা মার
পছন্দে বিয়ে করলে সব কিছু তবু বলতে
পারবো। এদিকে অভির কথা চিন্তা করলে বাবা মাকে
ত্যাগ করতে হবে। অভি কি আমাকে সুখী রাখতে
পারবে????
.
.
—-দুদিন ধরে চিন্তা করলাম কি করা যায়??? ভালবাসা কে
নিবো?? নাকি বাবা মাকে???? আমি যদি অভিকে বিয়ে
করি তাহলে বাবা কষ্ট পাবে। বাবা যে আমাকে খুব
ভালবাসে। মেয়েরা এই সময় খুব অসহায় হয়। অন্যরা
মনে করে মেয়েরা সার্থপর, কিন্তু মেয়েরা সবিই
পারে শুধু বাবার মনে আঘাত দিয়ে কিছু করতে
পারেনা।
.
.
—-এদিকে আমার হার্টের প্রবলেম প্রতিদিন ঔষুধ না
খেলে আমি ভাল থাকি না। এই কথা গুলো অভির আম্মু
জানতে পারে। তার কথা বিয়ে দিবেনা। যদিও দেয়
তাহলে দশলাখ টাকা দিতে হবে নগদ।
.
—হ্যাঁ আমার কথা ভেবে বাবা বললো আমি অভির
পড়াশোনার খরচ দিবো আর বাদ বাকি টাকা আমার
মেয়ের ঘর সাজিয়ে দিবো। কিন্তু নগদ টাকা
এভাবে দিবোনা। অভির মা তা শুনে না।
.
—আমি অভিকে বললাম তুমি তোমার আম্মুকে বুঝাও।
অভি বলে তোমার বাবাকে বুঝাও। তুমি বললে তো
তোমার বাবা সব কিছু শুনবে। আমি কি বলবো??????
শুধুই অবাক হলাম।
.
—-একটা পরিবার কিভাবে এতো লোভী হয়????
আমি একদম সোজা অভিকে বলে দিলাম। আমি আর
আমার বাবাকে বুঝাতে পারবোনা। তুমি যদি তোমার
ডিসিশনের উপর অটল থাকো????
.
-তাহলে আমার ডিসিশনের কথা বলে দিচ্ছি। আমি এই
বিয়ে করবোনা। আজই বাবাকে বলে দিবো আমি
বিয়ে করতে পারবোনা।
.
তুমি তোমার পরিবার কে বলে দিও অন্য জায়গায়
বিয়ে দিয়ে যৌতুক নিয়ে আসতে।তোমার তো
সুন্দর চেহারা মেয়ের পরিবার দেখলে টাকা দিতে
চাইবে। আর আজকের পর থেকে তোমার সাথে
আমার কোন সম্পর্ক নাই।
.
.
—-অভি বললো ওকে যাও। দেখো আমি
সাতদিনের ভিতরে বিয়ে করছি, তোমাকে
দেখিয়ে দিবো।
.
—-কেন যে কিছু ছেলেদের প্রথমের দিকে
ভালবাসা থাকে আর সময়ের পরিবর্তনে নিজেও
পরিবর্তন হয়ে যায়। আগে ভালবাসা থাকলেও এখন
অভির আমার প্রতি কোন ভালবাসা নাই। যা আছে শুধু
চাহিদা।
.
এই ধরনের ছেলেদের ভালবাসা অনেক জায়গায়
দেখা যায়। ভালবাসা তো ভালোবাসা অন্য কেন চাহিদা
থাকবে?? যদি থাকে দয়া করে কারও সাথে ভালবাসায়
জড়াবেন না।
.
.
—-তার কিছু দিন পরে শুনলাম অভি বিয়ে করেছে।
অভির বিয়ের কথা শুনে অনেক কষ্ট
লেগেছিলো। কিন্তু আমি যখন বাবাকে বলছিলাম বাবা
আমি অভিকে বিয়ে করবোনা। সেদিনের পর
থেকে বাবার মুখে হাসি ফুটে উঠছে। বাবার হাসি মুখ
দেখে আমার কষ্ট গুলো দূরে দিয়ে দিলাম।
.
.
—-আমি বাবাকে বললাম বাবা তুমি এখন বিয়ের কথা
বলবেনা। আমি বিএসসি শেষ করে নেয়। তারপর
তোমার যার সাথে ইচ্ছে বিয়ে দিও কিছু বলবোনা।
বাবা আমাকে বুকের সাথে জড়িয়ে কপালে একটা
চুমু দিয়ে বললো ঠিক আছে মা।তুই যা বলবি তাই
হবে।
.
.
—পড়াশোনা শেষ করলাম আজ তিনমাস। বাবা পাত্র
দেখছে,ভাল পাত্র পাইলে বিয়ে দিবে।
.
.
— হটাৎ একদিন আমার ফোনে সেই শিশিরের কল
আসে। শিশিরের কল পেয়ে আমি অবাক। ধরবো
কি ধরবোনা??? এটা ভাবতে ভাবতে কল কেটে
গেলো। সেকেন্ড বারে কল রিসিভ করলাম। শিশির
প্রথমে বললো।
.
.
—কেমন আছো??
—এইতো দিন যাচ্ছে।তোমার?? (অনেক দিন
পরে কথা তাই তুমি)
—আমারও যাচ্ছে। কি করো????
—বসে আছি। তুমি????
—আমি অফিসে কাজ করি।
—-ও কিসের জব করো? এইতো একটা কম্পানি
তে টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ার হিসেবে জয়েন করছি।
—ওহ ভাল তো।
—আচ্ছা রিতু তোমাকে একটা কথা বলবো????
—হ্যাঁ বলো!
—-রিতু আমার মা খুব অসুস্থ, তুমি কি আমার ঘরে এসে
সারাজীবনের জন্য আমার মা এর মেয়ে হয়ে
সেবা করতে পারবে????
—-আমি চুপচাপ আছি। কি বলবো???
—-কি হলো চুপ করে আছো কেন???? আমি
তোমার সব খবর জানি। সব কিছু তোমার বাসার পাশের
বাড়ির মুনের কাছ থেকে সব খবর রাখতাম। ভাবতাম যদি
জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারি? তাহলে তোমার
সামনে যাব। হ্যাঁ আজ প্রতিষ্ঠিত আমি,আমার কি
তোমাকে খুব খারাপ লাগে???
.
—আমি তখনো চুপ আছি। অমতা অমতা করে বলছি। না
মানে?? তুমি তো সব জানো? তবুও আমাকে
কেন??????
—আমি সব জানি। আর ওই প্রথম থেকেই
তোমাকে আমার ভাল লাগতো। যেদিন থেকে
তোমার সাথে কথা বলা বাদ দিয়েছে সেদিন
থেকে তোমাকে ভালবেসেছে। কিন্তু আমার
জন্য তোমার কোন কষ্ট না হয়? তাই দূরে দূরে
থাকছি।
.
—আমি আর না করতে পারি না। শুধু বলি বাবা মা রাজি হলে
আমার কোন প্রপবলেম নাই।
.
হ্যাঁ সত্যি আল্লাহ যা করে মঙ্গলের জন্য করে।
শিশির ছেলে হিসাবে খারাপ না। অনেক ভাল বাবা মা
অপছন্দ করতে পারবে না।
–হ্যাঁ সবাই রাজি হলো। শেষে আমার আর শিশিরের
বিয়ে হয়ে গেলো।
.
—-লাস্টে একটা কথায় বলতে চাই। বাবা মা যা করে
সন্তানের ভালোর জন্য করে। তাই বাবা মার মনে
কষ্ট দিয়ে কোন কাজ করার আগে সাতবার ভেবে
দেখেন। হ্যাঁ আমি যদি সেদিন বলতাম বাবা আমি
অভিকেই বিয়ে করবো??? সেদিন আমার বাবা না
চাইলেও অভির সাথে বিয়ে দিতো।অভির মতো
ছেলের ভালবাসার চেয়ে বাবা মার ভালবাসা অনেক
বড়। এই ভালবাসাকে ছোট করা কারও অধিকার নাই।

0 Comments