এই যে শুনছেন ai je sunchin
এই যে শুনছেন



কড়া রোদের মাঝে একা বসে বসে সমুদ্র দেখছে নিবেদিতা… এখানে তেমন কেউ নেই কোলাহল থেকে একটু দূরে… নিবেদিতার এই প্লেস টা খুব প্রিয়, যতোবারি কক্সবাজার যাওয়া হয় এই প্লেস টাতে সব চে সময় কাটে নিবেদিতার….

>এই যে শুনছেন?
.
>(নিবেদিতা ফিরে তাকালোনা)
.
>এই যে বয়ড়া নাকি?
.
>(নীরব)
.
>এই যে মিস বয়ড়া আপু…
.
> এবার নিবেদিতা তাকালো খুব রাগী ভাবে..
.
>না মানে আমি না হারিয়ে গেছি ( একটু একটু ভয়ে ভয়ে বল্লো)
.
# এত বড় একটা ছেলে বাচ্চা দের মত এসে বলছে সে হারিয়ে গেছে.. কথা টা শুনে নিবেদিতার কিছু টা হাসি পেল বাট সে তা প্রকাশ করলো না.. আর নিবেদিতা এমনিতেই একটু চুপচাপ স্বভাবের… খুব একটা হাসতে তাকে সহজে দেখা যায় না…
.
> আমি টুরিস্ট গাইড নই (নিবেদিতা)
.
>তা জানি… কিন্তু দেখুন আমি কক্স বাজার প্রথমবার এসেছি বন্ধু দের সাথে… সবাই সাথেই ছিল কখন যে আমি প্রকৃতির পিক ক্যাপচার করতে করতে এখানে এসে পড়েছি ঠিক বুঝতে পারিনি… (ছেলেটি)
.
> ঐ দিক টা দিয়ে সোজা চলে যান.. পৌঁছে যাবেন…
.
>দেখুন আমি রিস্ক নিতে চাচ্ছিনা যদি আবার হারিয়ে যায় প্লিজ আপনি সাথে চলুন…

>আচ্ছা ঝামেলা ত আপনি… স্যরি এখন আমি এখান থেকে যাবো না..
.
> ইটস ওকে আমি অপেক্ষা করব আপনি যাওয়ার সময় হলেই নাহয় যাবো…
.
>আপনার উদ্দেশ্য কি বলুন ত?!
.
>বিশ্বাস করুন আমার কোনো উদ্দেশ্য নেই.. আমি সত্যি হারিয়ে গেছি… আমি জাহিন আরিয়ান, গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করলাম কিছু দিন হলো আর ওটা সেলিব্রেট করতেই কক্সবাজার আসা সবাই মিলে… প্লিজ আমাকে অবিশ্বাস করবেনা না আমি সত্যি হারিয়ে গেছি… অনেক ক্ষণ যাবত পথ খুজছি…সত্যি বলতে এখানে আপনাকে দেখতে পেয়ে কিছুটা স্বস্তি লাগছে (এক নিশ্বাসে কথা গুলো বলে ফেললো জাহিন)
.
# নিবেদিতা কিছুসময় বিরক্তি নিয়ে জাহিনের দিকে তাকিয়ে থেকে কিছু না বলে আবার সমুদ্র দেখতে লাগলো… আর এদিকে জাহিন অনর্গল কথা বলেই যেতে থাকলো…
অবশেষে প্রচণ্ড বিরক্তি নিয়ে নিবেদিতা উঠে গেলে সেই স্থান থেকে তাই জাহিন ও ওর পিছু পিছি হাটতে থাকলো ….
.
ফাইনালি জাহিন তার বন্ধু দের খুজে পেয়ে নিবেদিতার কান দুখানা কে মুক্তি দিলো যদিও এতক্ষণে তা ঝালাপালা হয়ে গেছে জাহিনের বকবকের ফলে… যদিও যাওয়ার আগে বলে গেছে এই উপকারের প্রতিদান সে দিবেই দিবে… এটা শুনে নিবেদিতা একটু ঘাবড়ে গেলো এটা ভেবে যে এই আপদটার সাথে আবার দেখা হবে!…
.
এর পর দিন আবার দেখা হয়ে গেলো ছেলেটার সাথে…
কোথ থেকে যেন দৌড়ে এসে বলতে লাগলো এই যে মিস ভাব আপনার নূপুর…
.
>এটা আমার না…
.
>আরে এটা আপনার ই আমি দেখলাম আপনি ওদিক টা দিয়ে হেটে আসলেন। আর এটা ওখানেই পেয়েছি…
.
> আমি নূপুর পড়িনা….
.
> না পড়লে ভালই এটা আমার জিএফ কে গিফট করে দিবো….
.
>নীরব
.
>আচ্ছা সব সময় এমন চুপ করে থাকেন কেন! দম বন্ধ হয়ে আসেনা?
.
> নীরব
.
> বেশি বেশি হাসবেন আর একটু আধটু
কথা বলার ট্রাই করবেন মানুষজনের সাথে দেখবেন মৃত বিএফ কে খুব তারাতারি ভুলতে পারবেন….
.
> মানে!
.
> আপনি না বললে ও বোঝা যায় আপনার যে বিএফ মারা গেছে.. আপনার উদাস ফেইচ টা ত তা ই বলে…
.
> বুঝলে ভাল
.
> দেখেন যা হয় ভালোর জন্যই হয়.. এখন এটা মেনে নেয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই আপনার।
# নিবেদিতা কিছু না বলেই সেই স্থান ত্যাগ করলো…
জাহিন আর নিবেদিতা পুরোই বিপরীত টাইপের… একজন সব সময় চুপচাপ থাকে আরেক জন অকারণে বক বক করে আড্ডা জমিয়ে ফেলতে ওস্তাদ।
জাহিন ও জানে নূপুর টা নিবেদিতার নয় তবুও ফাজলামু করার জন্যই এমন করেছে… জাহিন ওর ফ্রেন্ড সার্কেলের মধ্যে ভাল ব্রান্ডের ই ফাজিল বটে…
.
দূর থেকে জাহিনের বন্ধুরা ব্যপার টা খেয়াল করলো কিন্তু সবাই জানে ও ফাজলামু করতেই গেছে…
.
পরদিন জাহিন আবার নিবেদিতা কে দেখতে পেলো একটা শপ এ বসে থ্রি পিস দেখছে… এশ কালার একটা থ্রি পিস দেখছে কিন্তু জাহিন গিয়ে আপত্তি বাধালো।।।
.
>এই যে মিস ভাব ওই সাদা ড্রেস টা নিন আপনাকে বেশ মানাবে..
.
> নিবেদিতা কিছুই বল্লোনা
.
>বলছিনা সাদা টা নিতে… ভাই সাদা টা প্যাকেট করে দিন…(দোকান দার কে উদ্দেশ্য করে)
.
>দেখুন আপনার মনে হচ্ছেনা আপনি বেশ বাড়াবাড়ি করছেন আমার সব ব্যাপারে…
.
>কই না ত… বাড়াবাড়ি করছি মনে হলে ত করতাম না এমন টা… সাদা ড্রেস টা নিতে বলছি নিন…
.
>আমি পড়িনা সাদা ড্রেস. ওকে.. জাস্ট ওয়েল ইউর ওন মেশিন….
.
>ঠিক আছে কোন কোম্পানির ওয়েল দিবো সেটা বলে দিলে একটু ভালো হয় ম্যাম…..
.
# নিবেদিতার খুব রাগ লাগলো ছেলেটার আচরণে… তার ইচ্ছা করছিল খুব করে ঝারি দিতে কিন্তু সে যেমন কারো সাথে সুন্দর করে কথা বলতে পারে না ঠিক তেমন ঝাড়তে ওও পারে না…. নিবেদিতার সব রাগ নিজের উপড়…. ব্যাপার টা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য নিবেদিতা ড্রেস না নিয়েই দোকান থেকে বের হয়ে গেলো…
আর পেছন থেকে জাহিন বলতে লাগলো পারেন ই ত কিছু হলেই পালিয়ে যেতে…
.
আরো প্রায় ৫ দিন নিবেদিতা কক্সবাজার ছিলো এই পাচ দিনে প্রতিটা ব্যপারে নিবেদিতাকে জ্বালিয়েছে খুব করে জাহিন… কখনো আইস ক্রিম খেয়ে নিবেদিতা কে বিল ধরিয়ে চলে যাওয়া আবার কখনও নিবেদিতার খোপায় বাধা চুল গুলো ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যাওয়া…
.
নিবেদিতা বুঝতেই পারেনা ছেলেটা কেন এমন করে! ফাজলামো করার জন্য কি নিবেদিতা কেই খুজে পেলো ছেলেটা! অবশ্য এতে ছেলেটার দোষ নেই.. দুনিয়ার সব মানুষ রা নিবেদিতাদের নিয়ে মজা করতে বেশ পছন্দ করে….
.
শেষ যখন জাহিনের সাথে নিবেদিতার দেখা হয়েছিল… নিবেদিতার জন্য চকোলেট নিয়ে এসে ছিল জাহিন….
নিবেদিতা যখন এসব সে খায়না বল্লো তখন জাহিন বলে উঠলো….
.
> নূপুর পরতে পছন্দ করেন না.. সাদা ড্রেস পরেন না.. চোকলেট খান না… কথা বলতে ভালো লাগেনা কারো সাথে… আচ্ছা বলুন ত আপনার সমস্যা টা কি! অন্য কোনো মেয়ে হলে কিন্তু এত দিনে থাপ্রাইয়া আমার দাত সব ফেলে দিতো কিন্তু আপনি সেটা ও করলেন না… কারণ টা বুঝতে পারছিনা…
.
> ওমা সিম্পল ব্যপার বুঝলেন না কেন! কালো মেয়েরা নূপুর পড়েনা.. সাদা ড্রেসে ওদের বড্ড বেমানান লাগে আশেপাশের মানুষ গুলো বলে… চকোলেট কালো মেয়েরা খায়না এটা বেশি আহ্লাদী দেখায়…. আর আপনাকে থাপ্রাইনি কারণ অতো সাহস কালো মেয়েদের থাকতে নেই… সবাই মজা নেয় আপনি ও নাহয় নিলেন… (নিবেদিতা অনেক চেঁচিয়ে কথা গুলো বল্লো তবে ওর চোখে জল টলমল করছিল)..
.
জাহিন আর কিছুই বলতে পারলোনা দাঁড়িয়ে নিবেদিতার চলে যাওয়া দেখছিল শুধু…..
.
.
নিবেদিতার প্ল্যান ছিল আরো দুই দিন সেখানে থাকার কিন্তু কেন যেন ইচ্ছা টা হারিয়ে গেলো তাই নিজের শহরে চলে গেলো…. কক্সবাজার নিবেদিতার মামার বাসা তাই প্রতিবছর ই এখানে আসা হয় একা সময় কাটানোর জন্য…।
.
নিজের শহরে আসার পর কেন যেন জাহিনের বাদ্রামি গুলো মিস করতে লাগলো নিবেদিতা… যদিও এর কোনো কারণ সে খুজে পেলোনা… এমন কেউ কখনো আসেনি নিবেদিতা লাইফে হয়ত তাই….. হোক না তাচ্ছিল্য তবুও কোথাও না কোথাও একটু ভাল লাগা ও ছিল সেটা তখন বুঝতে না পারলে ও এখন বুঝতে পারছে….
কিন্তু এসব পাত্তা দিলে চলবেনা নিবেদিতার…
.
নিবেদিতা শ্যাম বর্ণের অতোটা আধুনিকা ও নয়… নিবেদিতার ছোট বোন নিমিশা বেশ সুন্দরি… ছোট বেলা থেকেই দেখেছে অন্যদের কাছে নিবেদিতার চাইতে নিমিশার প্রাধান্য বেশি…. ছোট বেলা থেকে তাকে ড্রেস চুজ করার ব্যাপারে শুনতে হয়েছে তোমাকে এই কালার টা সুট করবেনা… অন্য কালার দেখো… কালো মেয়েরা আহ্লাদী হতে নেই সেটা ও নিবেদিতা বুঝতে শিখেছে ছোট বেলা থেকে যদি ও নিবেদিতার বাবার কাছে নিবেদিতা তার রাজকন্যা, বাবা বড্ড ভালোবাসেন মেয়েকে।. মা ও ভালোবাসেন মেয়েকে তবে মা সব সময় চাইতেন মেয়েকে সুন্দর দেখাক তাই নিবেদিতা কে যা সুট করতো কেবল সেই কালার গুলোই নিয়ে দিতো.. কখনো জানতে চায় নি মেয়ে কি চায়… বরাবর ই নিবেদিতার মা নিবেদিতা কে নিয়ে চিন্তিত….
বেশ কয়েকজন পাত্র নিবেদিতা কে রিজেক্ট করেছে… অনেক সময় নিবেদিতা কে দেখতে এসে নিমিশা কে পছন্দ করে ফেলতো… এই কষ্ট টা কেমন সেটা এক মাত্র একটা মেয়ে ই বুঝতে পারে….
ছোট বেলা থেকে নিবেদিতা একটু চুপচাপ স্বভাবের… বড় হতে হতে যখন নিজের অবস্থান টা বুঝতে শুরু করেছে তখন থেকে আরো বেশি নীরব হয়ে গেল……
.
# নীরব জীবনে কোলাহল হয়ে জাহিনের আগমন টা… কিছু কিছু অভ্যেস চেঞ্জ করে দিয়েছে নিবেদিতার…. মাঝে মাঝে অকারণেই জাহিনের কথা ভাবে মন।
.
.
# এক টা বছর পার হয়ে গেল নিবেদিতা এমবিএ তে এডমিট হলো অনার্স শেষ করে….. এর মধ্যে কোনো পাত্র পক্ষের সামনে আর যায়নি নিবেদিতা…
কি দরকার নিজেকে অতো টা স্বস্তা করার…….
.
কিন্তু এবার আবার শৌ পিজের মত সঙ সেজে পাত্র পক্ষের সামনে যেতে হলো মা আর মামার অনুরোধে…
.
পাত্র কে দেখে নিবেদিতা অনেক বেশি অবাক হয়েছে.. ঠিক যেন সিনেমার কাহিনি ঘটছে ওর জীবনে… পাত্র আর কেউ নয় সেই বাদর ছেলে জাহিন…
জাহিনের মা বাবা ও বেশ পছন্দ করেছে নিবেদিতা কে… হ্যাপী এন্ডিং হয়া গল্প গুলোর মতই সব কিছু হচ্ছে… সব কিছু কেমন কেমন স্বপ্ন স্বপ্ন লাগছে নিবেদিতার কাছে…
.
রিং পড়িয়ে দিলো নিবেদিতা কে… কিন্তু নিবেদিতা এখন ও বিশ্বাস করতে পারছেনা যে এই প্রথম তার জীবনের এমন অবাস্তব একটা চাওয়া পূর্ণ হতে যাচ্ছে…
..
এনগেজমেন্টের পর.. জাহিন আর নিবেদিতা কে কিছুক্ষণ আলেদা কথা বলতে দেয়া হলো.. যদিও ব্যপার টা এনগেজমেন্টের আগে হয়ার কথা বাট তবুও হচ্ছে….
.
> এই যে মিস ভাব…. দেখলেন ত এই আপদ ছেলে টা সেই কালো মেয়ে টাকে খুজতে খুজতে কতদূর চলে এসেছে…
.
> নিবেদিতা মৃদু হাসলো….
.
> তোমার সেই জলে ভরা টলমলে চোখ দুটো আমার শান্তির ঘুম কেড়ে নিয়ে পালিয়ে ছিলো বুঝলে…
.
হঠাৎ নিবেদিতার মুখ টা ফ্যাকাসে হয়ে গেলো… জাহিন কি করুনা করছে ওর উপর!
.
>কিছুক্ষণের জন্য মনে হচ্ছিলো কিছু টা দূরে আলো ফুটেছিল কেউ একজন ভালোবাসে ভেবে.. কিন্তু এখন কেন যেন সেটা করুনা মনে হচ্ছে….
.
>কি বলো এসব!
.
> আপনি করুণা করছেন তা ই না!
.
> যে ভালোবাসা আর করুণার মাঝে ফারাক বোঝেনা তাকে কিছু বলার নেই…..
.
# কথা টা বলেই জাহিন চলে গেলো হয়ত অভিমানে… কিন্তু নিবেদিতা কোনো ভাবেই নিজের মন কে বুঝাতে পারলোনা এটা করুনা নয় ভালোবাসা…
করুনার দৃষ্টি থেকে নাকি ঘৃণার দৃষ্টি অনেক ভালো… আজ কালো বলে কি তাকে করুনা ও মেনে নিতে হবে….!
.
পর দিন জাহিন নিবেদিতা দেখা করতে ডাকলো….
.
জাহিন নিবেদিতা পাশাপাশি বসে আছে, জাহিন নিবেদিতার হাতে একটা খাম দিলো আর বললো খুলে দেখতে…..
নিবেদিতা খুলে বেশ অবাক হলো সব নিবেদিতার পিক কক্সবাজারে যখন গিয়েছিল তখন কার….
.
তখন জাহিন বলতে শুরু করলো..:- তোমার কি মনে আছে আমি পথ হারিয়ে গিয়েছিলান যেদিন তোমার সাথে প্রথম দেখা!!?
.
> হুম (নিবেদিতা)
.
> কিন্তু ঘটনা টা মিথ্যে ছিল তোমাকে আমি এর আগের দিন ও দেখেছি .. সেই একই জায়গা তেই আমি পিক তুলছিলাম প্রকৃতির হঠাৎ তোমাকে দেখতে পায়… কি গভীর মনোযোগ দিয়ে সমুদ্র দেখছিলে তাই ত আমি এতো গুলো পিক তুল্লাম তোমার তবুও বলতে পারলে না… এখানে আছে সেদিন কার পিক… তোমাকে দেখেই বুঝতে পেরেছি লাভ এট ফার্স্ট সাইট কি…. এর পর দিন ও তোমাকে খুজতে খুজতে সেখানে গিয়েই পেয়েছি…. তোমার সাথে কথা বলার জন্যই হারিয়ে যাওয়ার বাহানা বানিয়েছি… আমি খুব হাসিখুশি টাইপ একটা ছেলে.. সব ব্যাপারে মজা করতাম… আমার বন্ধুরা ও গত এক বছর আগে আমার সম্পর্কে এমন টা ই ভাবতো… আমি তোমাকে খুব পেইন দিতাম.. কি করবো বলো ফাজলামো ছাড়া অন্য কোনো ভাবে কথা বলার ধরণ আমার জানা ছিলোনা… আমি ভেবেছিলাম তোমাকে প্রপোজ করবো তখন ই কিন্তু শেষ যখন তোমার সাথে কথা হলো সেই কথা গুলো শোনার পর আমি বদলে গেলাম…. আমি বুঝতে পেরেছিলাম তোমাকে পেতে হলে এই ফাজিল ছেলে টাকে সিরিয়াস হতে হবে… বিশ্বাস করো আমি তোমায় দেখেই ভালোবেসেছি কিন্তু তুমি কালো নাকি ফর্সা সেটা সেদিনের আগে আমি খেয়াল করিনি…. উপর ওয়ালা হয়ত তোমায় শ্যাম বর্ণে সাজিয়েছে… কিন্তু বিশ্বাস করো যারা সত্যিকার ভালোবাসে তারা কখনো সে দেখতে কেমন সেটা ভেবে ভালোবাসেনা… তোমার সেই চাহনী আর গভীর কালো চোখ ই যথেষ্ট ছিল আমি প্রেমে পরার জন্য….. তোমায় ফলো করে আমি তোমার মামার বাসা পর্যন্ত গিয়েছলাম…. তুমি চলে আসার পর আমি তোমার মামার সাথে দেখা করি আর নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ১ বছর সময় চেয়ে নিয়ে ছিলাম… আমি তোমার সব খোজ ই রাখতাম…. আমার বাবা মা আমার ফ্রেন্ড সার্কেল সবাই দেখেছিল ফাজিল ছেলেটা নিবেদিতা নামের এক মায়াবতীর জন্য কত টা সিরিয়াস হয়ে গেছে নিজের লাইফ নিয়ে….. কিন্তু তুমি বললে আমি করুণা করছি! এসব কে করুনা বললে ভালোবাসা কাকে বলে! আমি অতো টা উদার নয় যে করুণা করতে যাব…..
.
.
#নিবেদিতা ভাবতেই পারেনি যে উপর ওয়ালা তার জন্য এমন একজনকে পাঠাবে যে তাকে এতটা ভালোবাসবে…. মুখে কিছুই বলতে পারছেনা জাহিন কে শুধু চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পরছে অঝরে..
.
> দেখো আমি শুধু আমার ভালোলাগা টা ই প্রকাশ করলাম তুমি চাইলে আমাকে ফিরিয়ে দিতে পারো… তোমার আর আমার চাওয়া টা ভিন্ন হতে পারে… আমি তোমাকে ভালোবাসি তাই আমি তোমার যেকোনো সিদ্ধান্ত ও মেনে নিবো…
.
# কান্নার জন্য নিবেদিতা কিছুই বলতে পারলোনা কেবল জাহিন এর হাত গুলো খুব শক্ত করে ধরলো…
.
> থাক করুনা দেখিয়ে আমার হাত ধরতে হবেনা ( জাহিন)
.
> কি!
.
> কি ছাড়া কোনো কথা কি মুখে আসেনা….!
.
> না আসেনা…
.
> কাল ত ঠিকই করুণা ফরুনা বেশ কিছু বলছো….
.
> আচ্ছা স্যরি..
.
>এভাবে স্যরি বললে হবেনা…
.
> ত কিভাবে
.
> কান ধরে উঠ বস করো…
.
> কি!
.
> আচ্ছা ওকে… আপাতত আমার হাত ধরে এই নদীর পারে হাটলেই চলবে..
কি পারবে ত?
.
> হুম..
Please Rate This Post