ক্রিং ক্রিং ক্রিং

ক্রিং ক্রিং ক্রিং

লো জান কি কর?(আমি)
-ঐ আমাকে জান বলবানা । (জানপাখি)
-কেন আমার জানপাখিটাকে জান বলবনা তো কি বলব?
-আমার নাম নেই আমার ধরে ডাকবা??
-আরে তোমাকে তো আমি আদর করে জান বলে ডাকি ।


-শোনো আমার এরকম ন্যাকামো ভাললাগে না
। তুমি যদি আর
একবার আমাকে জানপাখি,বাবুইপাখি এরকম কোনো নামে
ডাকছ তাহলে তোমার খবর আছে বলে দিলাম ।
-ওকে জানপাখি তোমাকে আর কখনো ঐরকম নামে ডাকবোনা ।
-আবার……
-আরে না না ভুলে মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে আর কখনো বলবনা ।
-ওকে ঠিক আছে এবারের মত ক্ষমা করে দিলাম নেক্সট টাইম
আর ক্ষমা করবনা ।
-ওকে এখন ফোন রাখি বাই ।
-ফোন রাখবা মানে । ও বুজেছি আমার সাথে আর কথা বলতে
ভাল লাগেনা তাইনা ।
-আরে আমি তো এই কথা বলি নাই ।
-তোমাকে আমি চিনি না বুজচ্ছ চান্দু তোমাকে আমি হারে
হারে চিনি । তুমি আমার ফোন রেখে অন্য মেয়ের সাথে কথা
বলবা তাইনা ।
-তুমি ভাল করেই যান যে আমি তুমি ছাড়া অন্য কোনো মেয়ের
সাথে কথা বলিনা তবুও ঐ কথা বলতে পারলা???
-তাহলে তুমি ফোন রাখবা কেন??
-আরে আমার ঘুম পাচ্ছে তাই ফোন রাখতে বললাম ।
-কি আমাকে ঘুম না পারিয়ে তুমি আগে ঘুমাবা???
(এই মেয়েটাকে প্রতিদিন গান শুনিয়ে ঘুম পারাতে হয় ও না
ঘুমানুর আগ পর্যন্ত আমাকে ঘুমাতে দিবেনা)
-শোনো আজকে ঘুমিয়ে পড় কালকে না হয় তোমাকে গান
শুনাবো শরীরটা খুব ক্লান্ত লাগছে ।
-তুমি যদি আমাকে গান শুনিয়ে ঘুম না পারাও তাহলে সারারাত
আমি জেগে তাকবো এই বলে দিলাম ।
(এই মেয়েকে দিয়ে কোনো বিশ্বাস নাই যেটা বলবে সেটা
করেই ছাড়াবে)
-না মহারানী আপনাকে সারারাত জেগে তাকতে হবেনা আমিই
সারারাত জেগে আপনাকে গান শুনাবো । আপনি একটু অপেক্ষা
করুন আমি গিটারটা নিয়ে বারান্দায় যাচ্ছি ।
-এইতো আমার বাবুটা খুব ভাল ।
.

(তারপর গিটার নিয়ে বারান্দায় গেলাম । বারান্দার গার্ড
ওয়ালে বসে কানে ইয়ারফোন গুজে গান গাওয়া শুরু করলাম । আর
কথা মেয়েটা (আমার জানপাখি) চুপটি করে শুয়ে শুয়ে আমার
গান শুনছে । গান শুনে শুনে কখন যে মেয়েটা ঘুমিয়ে যাবে
নিজেই টের পাবেনা । মেয়েটা বড্ড বেশি পাগল সব সময়
আমাকে ঝাড়ির উপরে রাখে কিন্তু ওই পাগল মেয়েটা আমাকে
খুব্বি বেশি ভালবাসে তাই একটু শাসনের উপরে রাখে আমিও
ওকে আমার জীবনের চাইতে বেশি ভালবাসি কিন্তু
পাগলিটাকে বুঝতে দেইনা । আমি যখন গান গাচ্ছিলাম তখন
দেখলাম আপু আমার রুমে এসে একবার উকি দিচ্ছিল কিন্তু
আমাকে গান গাইতে দেখে কিছু না বলেই চলে গেল । আপু জানে
যে গান গাওয়া আমার একটা শখ তাই ভাবছে হয়তবা এমনিই গান

গাচ্ছি । কিন্তু গান শুনিয়ে যে আমার বাবুইপাখিটাকে ঘুম
পারাচ্ছি সেটা বুঝেনি ।
.
কথা মেয়েটার সাথে আমার পরিচয় ফেইসবুকে । আমি মাঝে
মাঝে গল্প লিখতাম আর সেই গল্প গুলা কয়েকটা গল্পের পেইজে
পোস্ট হত । সেই সুবাদে মাঝেমাঝে কয়েকজন আমাকে মেসেজ
করে বলত যে আপনার গল্পগুলা খুব ভাল লাগে । আমি ধন্যবাদ
জানাতাম আর কোশলাদি বিনিময় করতাম এর চেয়ে বেশি কিছু
না । কিন্তু একদিন একটা মেয়ের মেসেজ দেকে একটু অবাক
হলাম । মেয়েটার মেসেজ ছিল যে…
.
-এই যে লেখক সাহেব কিসব আজগুবি গল্প লিখেন একটু ভাল
রোমান্টিক গল্প লিখতে পারেন না। খালি কস্টের গল্প লিখেন
কেন???
(মেয়ে)
-আমারতো কষ্টের মাঝে বসবাস কি করব বলুন রোমান্টিক কথা
যে আমি লিখতে পারিনা ।
(আমি)
-আপনার কিসের এত কষ্ট হু ।
-আপনাকে বলব কেন । আপনি তো আমার কাছের কেউ নন ।
-কাছের কেউ নয় তো কাছের করে নেন । আর এখন থেকে আর
কষ্টের গল্প লিখবেন না রোমান্টিক গল্প লিখবেন বুজলেন ।
-ওকে চেষ্টা করব ।
(মেসেজটা পাঠিয়ে আমি অফলাইনে চলে আসলাম । অফলাইন এ
এসে মেয়েটার কথা ভাবতে লাগলাম)
.
মেয়েটা কে… হঠাৎ করে এসে কিসব কথা বলে গেল কিছুই
বুজলাম না । পরে মেয়েটার প্রোফাইলে ডুকলাম না মেয়েটা
তো আমার ফ্রেন্ডলিস্টেও নেই । আর প্রোফাইল নামটাও কেমন
যেন (প্রণয়ী প্রিয়দর্শিনী) এ নামের অর্থটাও বুজতে পারলামনা

তারপর কিছুক্ষণ ফেইসবুক ঘাটাঘাটি করার পর বেরিয়ে আসলাম

.
ঐদিন রাতে আবার ঐ আইডি থেকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট সহ একটা
মেসেজ আসল ।
-এই যে লেখক সাহেব রিকুয়েস্ট গ্রহণ করুণ ।
(মেয়েটা)
– করেছি । (আমি)
– কি করছেন?
-এইতো শুয়ে শুয়ে ফেসবুক চালাচ্ছি । আপনি কি করছেন?
-এইতো বসে বসে টিভি দেখছি ।
-আচ্ছা আপনাকে একটা প্রশ্ন করি ।
-হুম করুন ।
-আপনার এই প্রোফাইলে যে নাম দেওয়া আছে ওই নামের অর্থটা
কি ।
-এটা তো বলা যাবেনা ।
-কেন ।
-কেননা আমি এই নামের অর্থ কাউকে বলি না ।
-কিন্তু কেন?
-এটা সিক্রেট বিষয় ।
-আচ্ছা ঠিক আছে আপনি যখন বলতে চাননা তাহলে আপনাকে
জুড় করবনা । কিন্তু আপনার নামটা কি সেটা তো বলবেন?
-হুম তা বলা যাবে আমার নাম হল কথা ।
-খুব সুন্দর নাম তো আপনার ।
-ধন্যবাদ ।
-স্বাগতম ।
(মেসেজটা পাঠিয়ে অফলাইনে চলে আসলাম)
.
তারপর মাঝেমাঝে মেয়েটার সাথে কথা হত তবে কথা বলার
পরিমাণটা খুব কম ছিল । কিন্তু ধীরে ধীরে কথা বলার
পরিমানটা বাড়তে থাকে । আস্তে আস্তে আমাদের সম্পর্কটা
আপনি থেকে তুমিতে নেমে এসেছে । আমি মেয়েদের সাথে
আবার তেমন গুছিয়ে কথা বলতে পারিনা কিন্তু কথা মেয়েটার
সাথে কথা বলতে খুবই ভাল লাগে । যার কারণে প্রতিদিনি ওর

সাথে ঘণ্টাখানেক চ্যাট হত । আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্কটা
ধীরে ধীরে গভীর হতে তাকল । তারপর আমাদের মাঝে নাম্বার
আদানপ্রদান হল এবং ফোনে ওর সাথে কথা বলতাম ।
তারপর আমি এক পর্যায়ে বুজলাম যে কথাকে আমি নিজের
অজান্তে খুব বেশি ভালবেসে ফেলেছি । কিন্তু ও কি আমাকে
ভালবাসে নাকি…..আমার প্রতি ওর বন্ধুত্বের আসনটাই অক্ষুণ্ণ
রেখেছে ।
মাঝেমাঝে আমার মনে হয় যে কথাও আমাকে ভালবাসে । কিন্তু
বলতে পারছেনা । আর মেয়েদের তো আবার বুক ফাটে তো মুখ
ফুটেনা । তাই বলে কি আমি থেমে তাকব কিন্তু আমি যে ওকে
ভালবাসি সেটা কিভাবে বলবো?? আর বললেও কি ও রাজি
হবে?? কিন্তু এভাবে আর কয়দিন থাকা যায় ওকে আমার
ভালবাসার কথা জানাতেই হবে…
তাই একদিন সাহস করে বলে ফেলেছিলাম যে আমি ওকে
ভালবাসি কথা প্রথমে রাজি না হলেও পরে ঠিকই ও টের
পেয়েছে যে ও আমাকে ভালবাসে ।
আর তারপর থেকে শুরু হল আমাদের ভালবাসার পথচলা ।
.
হঠাৎ কিছু একটার শব্দে ভাবনায় ছেদ পড়ল । তারপর নিচে চেয়ে
দেখি পকেট থেকে মোবাইলটা পড়ে গেছে তাছাড়া ঐ দিকে
কথারও কোনো সাড়াশব্দ ছিল না মেয়েটা বুধহয় ঘুমিয়ে পড়েছে
যার কারণে শুধু নিশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছিল । মোবাইলটা
তুলে হাতে নিয়ে রুমে চলে আসলাম । তারপর মোবাইলের
ব্যাটারি লাগিয়ে মোবাইল অন করলাম যাক মোবাইলটার কিছু
হয়নি পড়ে যাওয়ার কারণে শুধু কাভারটা একটু ফেটে গেছে ।
তারপর বিছানায় শুয়ে আবার ভাবনার সাগরে ডুব দিলাম ।
.
আসলেই মেয়েটা একটু বেশিই পাগল……
প্রথমে আমি টের পাইনি যে কথা এরকম জিদি মেয়ে পরে ঠিকি
আমি হারে টের পেয়েছি যে ও কিরকম মেয়ে সব সময় আমাকে
শাসনের উপরে রাখে । কথার এরকম শাসন আমার খারাপ লাগে
তা কিন্তু নয় ওর এরকম কেয়ারিং শাসন আমার খুব ভাললাগে ।
তবে মেয়েটার মনটা খুব ভাল ওই যে কথায় বলে সাদা মনে
কোনো কাদা নেই ।
একদিন কথাকে বলেছিলাম যে গান শুনবে কিনা মেয়েটাতো
গান শুনার জন্য একপায়ে রাজি । তাই সেদিন গিটার নিয়ে
বারান্দায় গিয়ে ওকে গান শুনাচ্ছিলাম গান শুনানোর এক
পর্যায়ে দেখলাম যে কথার কোনো সাড়াশব্দ নেই । বুজলাম যে
পাগলীটা গান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে গেছে তারপর রুমে এসে
আমিও ঘুমিয়ে পড়লাম । পরদিন সকালে কথার ফোনে ঘুম ভাঙল
ফোন ধরার সাথে সাথেই অবুঝ মেয়েটা কান্না শুরু করে দিল ।
.
-আরে জানপাখি সকাল সকাল ফোন করে বাচ্চা মেয়েদের মত
কান্না করছ কেন? (আমি)
-তুমি খুব পচা তোমার সাথে আমার আর কোনো কথা নাই । (কথা)
-আরে আমি আবার কি করলাম ।
-তুমি কালকে আমাকে গান শুনালেনা কেন?
(বোকা মেয়ের কথা শুনোন গান শুনতে শুনতে যে নিজেই ঘুমিয়ে
পড়েছে সেটার কোনো খবর নাই আর এখন বলছে আমার দোষ
আমি নাকি উনাকে গান শুনাই নাই)
-আরে তুমি নিজেই গান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়লা এতে আমার
কি দুষ ।
-তাহলে আমাকে ঘুম থেকে জাগালে না কেন??
-ভাবলাম আমার জানপাখিটা খুব আরাম করে ঘুমাচ্ছে শুধু শুধু
তোমার ঘুম ভাঙিয়ে আমার আবাল মার্কা গলার গান শুনানোর
কি দরকার ।
-শুনো আমি এত কিছু বুজিনা এখন থেকে প্রতিদিন আমাকে গান
শুনিয়ে ঘুম পারাতে হবে বুজলা ।
-আচ্ছা ঠিক আছে…….কিইইইইইইইই?
(ঘুমের ঘুরে রাজি হয়ে গিয়েছিলাম)
-কি বললাম শুনতে পাওনি নাকি কানে কম শুনো । আর তুমি যদি
আমাকে গান শুনিয়ে ঘুম না পারাও তাহলে আমি সারারাত
জেগে তাকব বুজলা ।
-শুনো কথা আমাকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করবা না ।
-কি আমি তোমাকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করতাছি???
(রাগি কন্ঠে)
-আচ্ছা বাবা ঠিক আছে তোমাকে প্রতিদিন গান শুনিয়ে ঘুম
পারাবো । এখন তো আমাকে একটু ঘুমাতে দাও!!!!
-ওকে বাবু এখন তুমি আরাম করে ঘুমাও ।
-ওকে বাই

(সেদিন থেকে ওকে প্রতিদিন গান শুনিয়ে ঘুম পারাতে হয়)
কথাগুলু ভাবতে ভাবতে নিজের অজান্তেই হেসে উঠলাম ।
.
ধীরে ধীরে আমাদের সম্পর্কের এক বছর পূরণ হতে চলল । কিন্তু
আজ পর্যন্ত আমরা কেউ কাউকে দেখিনি । এখনো দেখিনি যে
তা না ফেইসবুকে আমাদের দুজনের মাঝে ছবি আদানপ্রদান
হয়েছে কিন্তু আমরা সরাসরি কেউ কাউকে দেখিনি । তাই
ভাবলাম মেয়েটার সাথে একবার দেখা করা দরকার । এসব কথা
ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম নিজেই টের পেলামনা ।
সকালে ফোনের চিৎকারে ঘুমে বিঘ্ন ঘটল ।
বালিশের নিচ থেকে মোবাইল খুজে বের করে স্ক্রিনের নাম না
দেখেই ফোন রিসিব করলাম ।
.
-হ্যালো কে??(আমি)
-কে মানে তুমি আমাকে চিননা?(কথা)
-পরিচয় দিলে না চিনবো?
-কি তোমাকে পরিচয় দিয়ে তোমার সাথে কথা বলতে হবে ।
(রাগি কন্ঠে)
(তারপর মোবাইল কান থেকে নামিয়ে চোখের সামনে এনে
দেখি কথার ফোন…
হায় হায় একি করছি কার সাথে কেমন ভাবে কথা বলছি আজকে
আমার খবর আছে)
-সরি সরি জানপাখি ভুল হয়ে গেছে ঘুমিয়ে ছিলাম তো তাই
খেয়াল করিনি যে তুমি ফোন দিছ ।
-তা করবা কেন । সারারাত তো মেয়েদের সাথে কথা বলে পার
কর আর দুপুর পর্যন্ত মরার মত ঘুমাও ।
-কি আমি মরার মত ঘুমাই!!!
-তা নয়তো কি কখনো ঘড়িতে দেখছো বেলা কয়টা বাজে???
(তারপর ঘড়ির দিকে চেয়ে দেখি সকাল ১০:২৩ বাজে)
-হুম দেখছি এখনো ১০ টা বাজে ।
-তুমি এখন ঘুম থেকে উঠবা উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে আমাকে
কল দিবা বুজলা ।
-আরেকটু পরে উঠলে হয়না??
-না তোমাকে এখনি উঠতে হবে ।
(এই কথা বলেই কথা ফোন কেটে দিল আমাকে কিছু বলার
সুযোগই দিলনা)
ধুর এই মেয়েটার কারণে ঠিকমত ঘুমাতেও পারবোনা । কি আর
করা বাধ্য হয়েই ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হতে চলে গেলাম ।
ফ্রেশ হয়ে এসে নাস্তা করে রুমে এসে কথাকে আবার ফোন
দিলাম । রিং হওয়ার সাথে ফোন রিসিব করল মনে হয় আমার
ফোনের অপেক্ষায় ছিল

.
-হ্যালো কথা কি করছো? (আমি)
-বসে আছি । (কথা)
-আচ্ছা কথা একটা কথা বলি ।
-হুম বল কি বলবা ।
-আচ্ছা আমাদের তো রিলেশনের এক বছর পূূরণ হতে চলল ।
-তো

– চল না এবার দেখা করি ।
-ওকে তা ঠিক আছে দেখা করা যায় তবে তুমি আসবানা আমিই
তোমার সাথে দেখা করতে আসবো ।
– কি বল তুমি মেয়ে হয়ে আমার সাথে দেখা করতে আসবা কেন
আমিই তোমার সাথে দেখা করতে আসবো ।
(আমি সিলেট থাকি আর কথা তাকে ঢাকা তাই এতটা পথ একটা
মেয়ে মানুষ হয়ে কিভাবে আসবে তাই ওকে একা আসতে বারণ
করছি)
-আমি যেটা বলছি সেটাই হবে আমিই তোমার সাথে দেখা
করতে আসবো তা না হলে দেখা হবেনা ।
-কিন্তু??
-এখানে কোনো কিন্তু নাই ।
(কি আর করা বাধ্য হয়েই ওর কথায় রাজি হলাম)
-আচ্ছা বাবা ঠিক আছে তুমিই আসবা ।
-হুম এবার ঠিক আছে ।
-আচ্ছা তুমি কোনদিন আসবা?
-আজকে কত তারিখ যেন?
-হুমম আজকে ১২ তারিখ ।
-তাহলে আগামী ১৫ তারিখ আমি আসবো আর তুমি আমাকে
কিন্তু স্টেশনে নিতে আসবা ।
-সেটা আপনাকে বলতে হবেনা ম্যাডাম ।
-ওকে বাবু এখন ফোন রাখি বাই ।
-ওকে বাই ভাল থাকবা ।
.
আজ ১২ তারিখ কথার সাথে আমার দেখা হবে ১৫ তারিখ তাহলে
হাতে আরও তিনদিন আছে যাই এই তিনদিনে আমাকে অনেক
কিছু করতে হবে ।
.
আজ ১৫ তারিখ বুধবার কথার সাথে আমার আজকে দেখা হবে ।
সকালের দিকে ও বের হয়ে গেছে তাই আমিও সকাল সকাল
গিয়ে স্টেশনে বসে আছি । মেয়েটার জন্য খুব টেনশন হচ্ছে কত
করে মেয়েটাকে বললাম যে আমিই যাই না উনি আমার সাথে
দেখা করতে আসবেন । বড্ড বেশি জেদি মেয়েটা তাই বলে
জিদের ও তো একটা সীমা আছে । ওর চিন্তায় নানান আশংকা
মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে তাই ১০ মিনিট পরপর ফোন করে ওর খুজ
নিচ্ছি । অনেক্ষন যাবৎ স্টেশনে বসে আছি না অপেক্ষার প্রহর
যেন কাটতে চাইছে না ।
একটু পর ঘড়ির দিকে তাকালাম বেলা ১২ টা বাজে । এইতো
একটা ট্রেন দেখা যাচ্ছে মনে হয় এই ট্রেনেই আমার কথা
পাখিটা এসে গেছে ।
ট্রেনটা আস্তে আস্তে স্টেশনে এসে থামল ।
.
ধীরে ধীরে ট্রেন থেকে সবাই নামছে । কিন্তু কথাকে তো
দেখতে পাচ্ছিনা ওকে বলেছিলাম যে একটা হলুদ ড্রেস পড়ে
আসতে যাতে ওকে চিনতে কোনো অসুবিধা না হয় ।
কিছু সময় পর দেখলাম হলুদ ড্রেস পড়া একটা মেয়ে ট্রেন থেকে
নামছে । মেয়েটা ট্রেন থেকে নেমে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে
তাকানোর এক পর্যায়ে আমার দিকে মেয়েটার চোখ পড়ল ।
আরে এইতো কথা যার জন্য সেই সকাল থেকে বসে অপেক্ষা
করছি ।
ও আমার দিকে তাকিয়ে একটা মিস্টি হাসি দিল আমিও ওকে
একটা হাসি উপহার দিলাম । কথার ছবি আগে দেখেছিলাম ওর
ছবিতে ওকে যতটা সুন্দর লেগেছে সামনাসামনি ওকে তার
চাইতে অনেক বেশি সুন্দর লাগছে হলুদ ড্রেসে ঠিক যেন হলুদ
পরীর মত (না এই মেয়েকে হারানো যাবেনা যেভাবেই হোক এই
মেয়েটাকে আমার চাইই) । কথা ধীরে ধীরে আমার দিকে
এগিয়ে আসছে আর ঠোঁটের কোনে ভূবন ভূলানো হাসি আমিও
কথার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি । তারপর ওর কাছে গিয়ে
জিজ্ঞাসা করলাম…..
.
-আসতে কোনো অসুবিধা হয়নি তো??(আমি)
-না কোনো অসুবিধা হয়নি ।(কথা)
-চল তাহলে বাসায় যাওয়া যাক??
-না এত তাড়াতাড়ি বাসায় যাবনা ।
-কেন এখানে দাঁড়িয়ে কি করবা?
-এখানে দাঁড়িয়ে তাকবো তোমাকে কে বলল আজ সারাদিন
তোমার সাথে ঘুরবো তারপর বিকেলে তোমার বাসায় যাব ।
(আমি ওর কথা শুনে একটু অবাক হলাম)
-আরে কি বল তুমি এতটা রাস্তা জার্নি করে এসেছ চল বাসায়
গিয়ে একটু রেস্ট নিবা ।
-না না আমি বলছি এখন ঘুরতে যাব সো এখনি যাব তা না হলে
আমি আবার বাড়িতে ফিরে যাব ।
(আমি পাগলীটার কথায় একটু মুচকি হাসলাম)
-আচ্ছা ঠিক আছে চল ।
(তারপর পাগলীটাকে নিয়ে সারাদিন ঘুরলাম আর একসাথে
ফুচকা খেলাম । ওকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে গেলাম আর
উনার সব রকম বাহানা পূরণ করলাম । কথা আমার সাথে ফোনে
যেভাবে কড়াভাবে কথা বলত সামনাসামনি তা কিন্তু না ওর
কথা একটু বাচ্চা স্বভাবের মত সব সময় বাহানা করে কথা বলে
তবে উনি যেটা বলবেন সেটা আমাকে করতেই হবে । আমি আর
কি করবো প্রজাদের মত উনার সব হুকুম শুনতে হয় । তারপর বিকেল
বেলা কথাকে নিয়ে বাসায় ফিরলাম ।
.
আমি আমার আপা দুলাভাইয়ের সাথে থাকি । মা-বাবা গ্রামে
থাকেন আমি এখানে শাহজালাল ভার্সিটিতে পড়াশুনা করি ।
ভার্সিটিতে পড়াশুনার কারণে আমাকে সিলেটে আপা
দুলাভাইয়ের সাথে তাকতে হয় । আপা দুলাভাই আজ বাসায় নেই
বাইরে গিয়েছেন বাড়িতে শুধু রহিম চাচা আছেন উনি আমাদের
অনুপস্থিতিতে বাসাটা দেখাশুনা করেন ।
কথা আগে থেকেই জানতো যে আমি আমার আপাদের সাথে
থাকি । তাই কথা বাসাটা ফাকা দেখে একটু অবাক হল ।
এটা কথার চেহারা দেখে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে । তাই কথা আমাকে
জিজ্ঞাসা করল যে……
.
-কি বাপ্যার রিয়াদ বাসায় আর কাউকে দেখতে পাচ্ছিনা
তোমার আপু কোথায় উনাকেও তো দেখতে পাচ্ছিনা??(কথা)
-আরে আপু আর দুলাভাই মিলে কোথাও যেন ঘুরতে গেছে ।
(আমি)
-ও….তো বাসায় আর কেউ নেই?
-হুম আছে তো আমাদের বাড়ি দেখাশুনা করার জন্য রহিম চাচা
আছেন চাচা মনে হয় একটু বাইরে গেছেন । আচ্ছা তুমি তাহলে বস
আমি আপাকে একটু ফোন করে আসছি ।
-আচ্ছা ঠিক আছে তাড়াতাড়ি আসবা ।
-তুমি চিন্তা করনা আমি যাব আর আসবো ।
তারপর কথাকে আমার রুমে বসিয়ে আমি আপাকে ফোন করতে
বাইরে চলে আসলাম ।
..
.
কথা চারদিকে তাকিয়ে রিয়াদের রুমটা ভাল করে দেখছে (বাহ
খুব গোছালো তো ছেলেটা রুমটা খুব সুন্দর করে সাজিয়ে
রেখেছে)
কথা মনে মনে কথাটি বলল ।
পড়ার টেবিলের পাশে গিটারের দিকে কথার চোখটা গেল ।
বাহ গিটারটা তো খুব সুন্দর….
তাই কথা উঠে গিয়ে গিটারটা ছুয়ে দেখল ।
তারপর কথার চোখটা রিয়াদের পড়ার টেবিলের উপর পড়ল ।
টেবিলে চোখ পড়তেই কথা দেখতে পেল যে টেবিলের উপর
একটা ডায়েরি রাখা । কথা কোনো কিছু না ভেবেই ডায়েরীটা
হাতে নিয়ে ডায়েরীর পাতা উল্টালো । ডায়েরীটার প্রথম
পাতায় কথা কিছু দেখতে পেল না কিন্তু ডায়েরীটার কয়েকটা
পাতা উল্টানোর পর কথা ডায়েরীর পাতায় কিছু একটা লিখা
দেখতে পেল । তাই পড়ার আগ্রহটা ধরে রাখতে না পেরে
চেয়ারটা বের করে লিখাটা পড়তে শুরু করল ।
ডায়েরীর পাতাটার উপরে লিখা ‘সাইকো খুন’
(বাহ ছেলেটা সাইকো খুনের গল্পও লিখে দেখি)
কথা কথাটা মনে মনে বলল ।
তারপর কথা ডায়েরীটা পড়তে শুরু করল ।
.
০৭/০৫/১২
আজ নিপার সাথে দেখা করতে যাচ্ছি ওর সাথে আমার
ফেসবুকে পরিচয় তারপর বন্ধুত্ব । সেই বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে গভীর
হল তারপর এক পর্যায়ে বুজতে পারলাম যে নিপাকে আমি খুব
ভালবেসে ফেলেছি তাই একদিন সাহস করে বলে ফেলেছিলাম
যে আমি ওকে খুব ভালবসি তারপর নিপা ও আমার ভালবাসার
ডাকে সারা দেয় । তারপর থেকে শুরু হল আমাদের পথচলা ধীরে
ধীরে আমাদের সম্পর্কের একবছর পূরণ হতে চলল । তাই সিদ্ধান্ত
নিলাম যে আজকে নিপার সাথে দেখা করবো । তাই কিছুদিন
আগে নিপাকে বলেছিলাম যে আমাদের তো রিলেশনের একবছর
হতে চলল চল এবার দেখা করি । নিপা ও আমার সাথে দেখা
করতে রাজি হয় । তাই আজ নিপা সিলেট আসছে আমার সাথে
দেখা করার জন্য ।
তাই স্টেশনে বসে নিপার জন্য অপেক্ষা করছি । অনেক্ষণ যাবত
অপেক্ষা করছি কিন্তু ঢাকার ট্রেন এখনো এসে পৌছায়নি ।
অবশেষে আমার অপেক্ষার প্রহর শেষ করে ঢাকার ট্রেন এসে
পৌছলো । একটু পর দেখলাম নিপা ট্রেন থেকে নামছে (নিপা
অবশ্য ফেসবুকে আমাকে ওর ছবি দিয়েছে তাই ওকে চিনতে
কোনো অসুবিধা হল না) । নিপা একটা হলুদ ড্রেস পড়ে এসেছে ।
নিপাকে অবশ্য আমিই বলেছিলাম যে হলুদ ড্রেস পড়ে আসতে এই

হলুদ ড্রেসটাতে নিপাকে ঠিক হলুদ পরীর মত লাগছে । নিপা
আমাকে দেখে একটা হাসি দিল তারপর আমার দিকে এগিয়ে
আসতে লাগল । আমিও উঠে নিপার দিকে এগিয়ে গেলাম নিপার
কাছে বললাম যে কেমন আছো?আসতে কোনো অসুবিধা হয়নি
তো?
নিপা বলল যে ও ভাল ভাবেই এসেছে আসতে কোনো অসুবিধা
হয়নি ।
তারপর নিপাকে নিয়ে বাসায় আসতে চাইলাম….কিন্তু না আগে
নাকি উনি সারা শহর ঘুরে দেখবেন তারপর বাসায় যাবেন ।
আমিও ওর কথায় আর না করতে পারলাম না । সারাদিন নিপাকে
নিপে ঘুরলাম ঘুরুক না মেয়েটা জীবনের শেষ ঘুরাটা এরপর তো
আর ঘুরতে পারবেনা । তাই ওকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে
গেলাম যেটা চেয়েছে সেটাই খাইয়েছি আইসক্রিম,ফুচকা,
বাদাম আরর কতকি । জীবনের শেষ খাওয়াটা খেয়ে নিক না
এরপর তো আর কিছু খেতে পারবেনা ।
সারাদিন ঘুরার পর বিকেলবেলা নিপাকে নিয়ে বাসায়
ফিরলাম । বিকেলে আপা দুলাভাই বাসায় থাকেননা উনার
প্রতিদিন বিকেলে ঘুরতে বের হন আর রহিম চাচা পাড়ার টং
দোকানে বসে আড্ডা দেন যার ফলে বাসা প্রায় খালিই থাকে ।
নিপা বাসাটা খালি দেখে একটু অবাক হল যেটা ওর চেহারায়
স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে । তারপর নিপাকে আমার রুমে বসিয়ে
বাইরে এসে দেখেনিলাম যে কেউ আছে কিনা হঠাৎ যদি কেউ
এসে পড়ে তাহলে আমার সব প্লেন ভেস্তে যাবে । তাই যথা
সাধ্য সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে কেননা সাবধানতার
কোনো মাইর নেই ।
.
না কেউ নেই আর এইসময় কেউ আসবেও না সো যত তাড়াতাড়ি
সম্ভব আমাকে আমার প্ল্যানটাটা কার্যকর করতে হবে । তাই
আমি এবার আমার রুমে চলে আসলাম এসে দেখলাম নিপা আমার
রুম ভাল করে পর্যবেক্ষন করে দেখছে । আমি আবার তেমন
গোছালো টাইপের ছেলে নই কিন্তু আজ যথা সম্ভব রুমটাকে
সাজিয়ে রেখছি যাথে নিপার দৃস্টিকুন অন্যদিকে ব্যাস্ত
তাকে । আমি ক্লোরোফর্ম মিশ্রিত রুমালটা হাতে নিয়ে পিছন
থেকে নিপার মুখটা চেপে ধরলাম যাতে নিপা অজ্ঞান হয়ে
যায় । আর তাই হল কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নিপা অজ্ঞান হয়ে
গেল । তারপর নিপাকে চেয়ারের সাথে ভাল করে বেধে নিলাম
যাতে নড়াচড়টা একটু কম করতে পারে । না মেয়েটাকে অজ্ঞান
অবস্থায় মারা ঠিক হবেনা তাই একগ্লাস পানি নিয়ে আসলাম ।
তারপর ওই পানি থেকে কিছুটা পানি নিপারর মুখের উপর
ছিটালাম কিছুক্ষণ পর নিপার জ্ঞান ফিরলো । নিপা আমার
দিকে ভয়ের দৃৃস্টিতে তাকিয়ে আছে আর ওর স্পঞ্জের মত নরম
ঠোট্টা থর থর করে কাঁপছে । তারপর ওর মুখটা ভাল করে বেধে
নিলাম যাতে নিপার আত্নচিৎকার বাইরে না যায় ।
না মেয়েটার চোখটাও বেধে নিতে হবে তা না হলে ওই চোখের
দিকে তাকিয়ে আমি মায়ায় পড়ে যেতে পারি তাই নিপার
চোখটাও বেধে নিলাম ।
তারপর পড়ার টেবিলের ড্রয়ার থেকে নতুন ব্লেড বের করলাম
ব্লেডটা কালকেই কিনে ড্রয়ারের মধ্যে রেখে দিয়ে ছিলাম ।
ব্লেডটা হাতে নিয়ে কাগজটা খুললাম তারপর নিপার দিকে
তাকালাম মেয়েটা শুধু নড়াচড়া করে কষ্ট পাচ্ছে না
মেয়েটাকে আর কষ্ট দেওয়া যাবেনা । তারপর নিপার কপালে
একটা চুমু খেয়ে ব্লেডটা ওর গলার নলি বরাবর চালিয়ে দিলাম ।
ও খুব নড়া দিয়ে উঠলো মনে হচ্ছে দড়িটা যেন ও ছিড়ে ফেলেবে

কিন্তু হাত,পা সহ সব বেধে রাখার কারণে ঠিকমত নড়াচড়াটাও
করতে পারছে । পরে ব্লেডটা দিয়ে ওর বুকে এলো পাতারি টান
দেওয়া শুরু করলাম । এভাবে কিছুক্ষণ যাওয়ার পর নিপার দেহটা
স্থব্দ হয়ে গেল মেয়েট আর নড়াচড়া করছেনা । তবুও শিওর হওয়ার
জন্য ওর নাকে কাছে আঙুলটা নিলাম না ওর শ্বাস-প্রশ্বাস ও
বন্ধ হয়ে গেছে তারপর ওর হাতটা চেক করলাম নিপার রক্ত
চলাচল ও বন্ধ হয়ে গেছে। তারপর খাটের নিচ থেকে নতুন
লাগেজটা বের করলাম লাগেজটা গতকালকেরই কিনা একটা
ব্রান্ডের দোকান থেকে এটা কিনেছি ।
পরে নিপার নিথর দেহটা লাগেজের ভেতর ভরে খাটের নিচে
রেখে দিলাম । রাত ১২ টার দিকে জয়ের সি,এন,জি টা দিয়ে
নিপার লাশটা সুরমা নদীতে ফেলে দিলাম । আমার কাজ শেষ
এরপর নিপার নাম নিশানা আর কেউ খুজে পাবেনা ।
.
গল্পটা পড়ে কথা অনেক কষ্ট পেল আর মনে মনে রিয়াদকে গালি
দিতে লাগলো । আরে এরকম কষ্ট দিয়ে কি কেউ কাউকে মারে??
তারপর কথা ডায়েরীটার আরেকটা পাতা উল্টিয়ে দেখতে
আরেকটা গল্প গল্পটির নাম ও আগের গল্পের মত ।
‘সাইকো খুন’
১২/৯/১৩
আজ নিলীমার সাথে দেখা করতে যাচ্ছি………………….।
এই গল্পটা পড়ে কথা একটু ভরকে গেল পর পর দুটি গল্প একই রকম
দেখে কথা একটু অবাকই হল । তারপর কথা ডায়েরীরর আরেকটা
পাতা উল্টালো সেখানেও same গল্প পড়ে নিপা একটু ভয় পেল ।
আরে এখানে প্রত্যেকটা গল্প দেখি একই রকম তাই এগুলা গল্প
নাকি সত্যি কোনো ঘটনা এই কথা ভেবে কথা একটু ভয় পেল ।
কথা ভয়ে ভয়ে ডায়েরীর আরেকটা পাতা উল্টালো সেখানে
লিখা….
‘সাইকো খুন’
১৫/১০/১৫
আজ কথার সাথে দেখা করতে যাচ্ছি….।
লেখাটা পড়ে কথার ভয়টা প্রকট আকার ধারণ করল । কথা ভয়
পেয়ে ঘেমে গেল তারপর কথা টেবিলের ড্রয়ারটা খুলল
সেখানে সে একটা নতুন ব্লেড দেখতে পেল ব্লেডটার কাগজ
এখনো খুলা হয়নি । তারপর ব্লেডটা হতে নিয়ে কথা ডায়েরীর
আরেকটা পাতা উল্টালো কিন্তু ওই পাতায় কিছুই লিখা নেই
এরপর আরও কয়েকটা পাতা উল্টালো কিন্তু কিছুই লিখা দেখতে
পেলনা । তারপর কথা ডায়েরীরর একেবারে শেষের পাতা
উল্টালো সেখানে কিছু একটা লেখা দেখে কথা লিখাটা
পড়তে শুরু করল ।
.
আমি জানি কথা রুমের চারদিক ভাল করে দেখবে তারপর ওর
চোখ আমার গিটারের দিকে যাবে । তারপর কথা উঠে গিয়ে
গিটারটা একটু ছুঁয়ে দেখবে তারপর ওর চোখ আমার এই
ডায়েরীটার উপর পড়বে আর ও যেরকম চঞ্চল মেয়ে তাই ও
ডায়েরীটা হাতে নিয়ে পড়া শুরু করবে । পরে ও ডায়েরীতে পর
পর তিনটি গল্প একি রকমের দেখে একটু ভয় পাবে তবে এর পর ওর
নাম দেখে কথ পুরোপুরি ভয় পেয়ে যাবে । আর এতক্ষণে ও
ডায়েরীর লেখা গুলু পড়ে ভয় পেয়ে গেছে নিশ্চয় । কিন্তু
কথাকে এভাবে ভয় পাওয়ানোর কাজটা হল আমার সাজানো
নাটক । ও সারাক্ষণ আমাকে শাসনের উপর রাখে তাই ওকে একটু
ভয় পাওয়ানোর দরকার । তারপর কথার জন্য একটা সারপ্রাইজ
অপেক্ষা করছে যেটা কথা কখনো চিন্তাই করতে পারবেনা ।
লিখাটা এখানেই শেষ…..
.
লিখাটা পড়ার পর ধীরে ধীরে কথার ভয়টা কেটে গেল । আর
মনে বলল যে আজ রিয়াদ আসুক ওর খবর আছে ।
(আর যাই হোক ডায়েরীর লেখাগুলু সত্যি নয়)…মনে মনে কথাটা
বলল কথা ।
কিন্তু ডায়েরীর শেষের দিকে লিখা ছিল যে আমার জন্য নাকি
আজ কি একটা সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে তবে সারপ্রাইজটা
কি সেটা তো লিখা ছিলনা কিন্তু সারপ্রাইজটা কি হতে পারে
। না কথার কোনো কিছু মাথায় আসছেনা কি হতে পারে…..
তারপর কথা কারো পায়ের শব্দ পেল মনে কেউ আসছে ।
.
-আরে বাবা তুমি এখানে???(রিয়াদ আর ওর আপু দুলাভাই আর
সাথে কথার বাবা-মা তাই কথা অবাক হয়ে বাবাকে প্রশ্নটা
করল)
-তুই কি ভেবেছিস আমরা কিছুই জানি না তবে মা আমার জামাই
কিন্তু খুব পছন্দ হয়েছে তর সাথে খুব ভাল মানাবে। (কথার বাবা)

-কথার মুখে কোনো কথা নেই সে অবাক দৃষ্টিতে একবার সবার
দিকে তাকাচ্ছে আর একবার রিয়াদের দিকে তাকাচ্ছে । সবার
মুখে হাসি তবে রিয়াদ কথার দিকে তাকিয়ে দুষ্টুমির হাসি
দিচ্ছে ।
-তাহলে তুরা আয় আমরা তদের অপেক্ষা করছি । (কথার বাবা)
এই কথাটা বলে কথার বাবা সহ সবাই ড্রয়িংরুমে চলে গেল ।
আর রিয়াদ কথার দিকে এগিয়ে আসল ।
.
-ঠাশ
-আরে তুমি আমাকে মারলা কেন । রিয়াদ)
-তুমি আমাকে এভাবে ভয় দেখালা কেন যান আমি কতটা ভয়
পেয়েছি । (কথা)
-আমি আবার কখন তোমাকে ভয় দেখালাম ।
-তুমি ডায়েরীতে এসব কি লিখে রাখছিলা??
-ওহ ওইটা ভাবলাম তুমি আমাকে এত্ত জারি আর সব সময় শাসনের
উপরে রাখ তো তোমাকে একটু….. ।
-তাই বলে এভাবে আমাকে ভয় দেখাবা ।
-ওকে বাবু সরি আর এরকম করবোনা এই যে কান ধরলাম ।
-হয়েছে আর কান ধরতে হবেনা । আচ্ছা বাবা-মা এখানে
কিভাবে আসলেন???
-তুমি যেদিন বলছিলা তুমি আজ আসবা ওই দিন আমি তোমার
কথা দুলাভাইকে বলি দুলাভাই তো আমাকে নিয়া খুব গর্ব
করলেন । তারপর দুলাভাইকে দিয়ে আপুকে রাজি করাই । আর
আজ সকালে আপু আর দুলাভাইকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আমি
তোমার বাবা-মার কাছে পাঠাই । আর এটা বলি যেন
উনাদেরকে এখানে নিয়ে আসেন ।
-তাহলে তুমি আমাকে বললে না কেন??
-আরে এটা তো তোমার জন্য সারপ্রাইজ!!
-কথা আর কিছু বললনা মুচকি হেসে নিচের দিকে তাকিয়ে
রইলো
-আরে আমার বাবুটা লজ্জা পেল নাকি । আরে লজ্জাবতী এত
লজ্জা পেলে হবে এখনতো যেতে হবে শশুর আব্বা যে বসে আছেন
উনার সাথে কথা বলে বিয়ের তারিখ তো ঠিক করতে হবে.