পালিয়ে বিয়ে (paliye biye)||vagke sadi ||Run away  Marriage
পালিয়ে বিয়ে (paliye biye)||vagke sadi ||Run away  Marriage 

শুপ্তি আপুর বিয়ে খেতে এসে যে শুপ্তি আপুরে নিয়ে পালিয়ে যেতে হবে তা কখনো ভাবি নাই।

শুপ্তি আমার এক ইয়ার সিনিয়র উনি অনার্স ৩য় বর্ষে অধ্যয়নরত। আর আমি ২য় বর্ষ। কলেজে প্রথম যে দিন যাই সেদিন চোখ পরে যায় কলেজের মাঠে বসে থাকা একটা মেয়ের দিকে। সাদা ড্রেসে



মেয়েটাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছিল কোন এক নিস্পাপ বাচ্চার ন্যায়। যাকে বলে লাভ এট ফাস্ট সাইট। হ্যা আমি প্রথম দেখেই ভাল লেগে গেছিল। যখন চুল গুললো বাতাসে উড়ে সামনে আসছিল আর আর সে চুল গুলো বাম হাতে আস্তে করে পিছনে গুজে নিচ্ছিল আর যেন আমার মনের ভিতর ক্কোথাও একটা জায়গায় তোলপার শুরু হয়ে গেছিল।

-এক্সকিউজ মি।

বলার সাথেই সবাই এক নজর দেখে লিন। তারপর মৃদ কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো -ফাস্ট ইয়ার।

-জী

-দোতালার ৩ নাম্বার রুম তোমার ক্লাস রুম

-জী আমি ক্লাস রুম জানতে চাই নাই।

-তাহলে?

-জী আপনার সাথে কিছু কথা ছিল।

-হ্যা বল.

-এইখানেই বলব।

-হ্যা কেন এইখানে বলতে কি সমস্যা।

-না সমস্যা না কিন্তু কথাটা একটু ইম্পরট্যান্ট।

-সমস্যা নাই বল।

-আই লাইক ইউ।
-what…
-ইয়েস আই লাইক ইউ ইভেন ই লাভ ইউ ইফ ইউ সে ইয়েস। কেননা আপনি যদি ওই মেয়ে না হন তাহলে আমি আপনারে ভালবেসে ওই মেয়ের সাথে ধোকা করতে পারবো না যে আমার জীবনে আসবে।



একদমে কথা গুলো বলা শেষ করে সামনে তাকাইতেই দেখি সব হা হয়ে তাকিয়ে আছে দেখে আবার বল্লাম- জী আমি আপনারে এর কোন জবাব দিতে বলি নাই। জীবনে প্রথম আপ্নারে দেখে মনে হলো আমি আপনারে ভালবাসতে পারি তাই কথা গুলো বললাম।

-তুমি জান আমি তোমার সিনিয়র।

কথাটা যেন বুকের তিরের মত বিধলো। প্রথম ভাললাগা হইতো মনের মধ্যেই দাফন করে দিতে হবে। নিজেরে কেমন যেন বলদ বলদ মনে হচ্ছে কেন না জেনে কথা গুলা বলতে গেলাম। না জানি এখন কি ভাবে….

-কি হইলো বড় আপুরে প্রপোজ করে এখন আবার কী ভাব?

উনার কথায় ধ্যান ভাংলো)।

-জী আপু কিছু না আসলে আপু আমি জানতাম না আপনি আমার সিনিয়র হবেন আর দেখেও মনে হয় না আপনি আমার সিনিয়র। প্লিজ আপু কিছু মনে করবেন না আর ভুল করলে ক্ষমাসুলভ দৃস্টিতে দেখবেন।

বলেই কোন রকম হাফ ছেরে বাচার জন্য আসতে যাব তখনই পিছন থেকে ডাক দিল।

-জী আপু কিছু বলবেন।

– আসলি প্রপোজ করলি আবার চলেও যাচ্ছিস আনুমতি নিছিস বড় আপুদের কাছ থেকে।

এইটুকুতেই তুইতে নেমে আসছে ছোট তো কি হইছে ভালবেসে তুমি তো ডাকতে পারতো। আর তুই ডাকটা কেন যেন আমার কাছে একটু গুন্ডা গুন্ডা টাইপ লাগে। আমার দেখার দৃস্টিভঙি কেমন যেন বদলে যাচ্ছিল একটু আগে নিষ্পাপ বাচ্চা মনে হচ্ছিল তাকেই কেন যেন এখন গুন্ডি মনে হচ্ছে।

-কী হইলো আবার কি ভাবস।

-জী কিছু না (নিজেকে অনেকটা সামলে নিয়ে)। আচ্ছা আমি কি এখন যেতে পারি।

-না আগে বল এইভাবে এর আগে কত জনরে এই কথা বলছিস।

-জী আপনারে নিয়ে নাকি আপনারে বাদে।

-আমারে বাদে

-শুন্য

-মানে

-জী আপনারে ছাড়া কাউরে আর বলা হয় নাই।

-ভাল আর শোন আমি তোর বড় তাই তুই করেই বলব আর তুই তুমি করে বলবি। আর আমি সুপ্তি আর এই হলো আমার বেস্টি মালা আর রেসমা। আর আজকে থেকে তুইও এড হইলি আমাদের গ্রুপে কেমন।

-জী আচ্ছা আমি কী এখন যেতে পারি।

-এখন গিয়ে কি করবি প্রথম ক্লাসে ৪০ মিনিট লেট হয়ে গেছে তার থেকে এখানেই বস। আর তোর নাম তো বললি না।

ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ১০.৩৫ বেজে গেছে। তারপর বললল- জী আমার নাম সুজন।

তারপর বিভিন্ন রকম টপিকের উপর গল্প চলছে বেশি ভাগ টপিক আমিওই আমি কি করি কি করছি সব কিছুই জিজ্ঞেস করছে আর আমি শুধু তার মুখের দিকে তাকিয়ে উত্তর দিয়ে যাচ্ছি।। মনে মনে ভাবছি আসলেই কি সে আমার বড় দেখলে তো।মনে হয় আমার অনেক ছোট হবে হইতো দেখেই সব কিছুর মাপ করা যায় না।

আর যদি দেখেই বুঝা যাইতো তাহলে হইতো আমার চোখে তার জন্য ভালবাসা টা দেখে নিত তাহলে হয়তো আমাদের গল্পে কাহিনিটা অন্য রকম হতে পারতো। আচ্ছা আমি কি কোন কিছু অনেক বেশি ভেবে ফেলছি নাতো। সে আমার বড় চাইলেও সব কিছু সম্ভব না।

আমার বন্ধুদদের কাছে সুনতাম যে প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ে গেছে তখন কেমন যেন হাসি পাইতো। ভাবতাম আসলেই কি প্রথম দেখায় ভালবাসা যায়। কিন্তু আজ এখন মনে হচ্ছে ভালবাসার জন্য এক নজর বা এক ঝলকই যথেষ্ট আচ্ছা আমার এই ভালবাসার কী কোন ভবিষ্যৎ আছে। আর ভালবাসলেও কি তা স্বার্ধক হয়।হইতো হইতো বা না।

আমার এক বড় ভাইরে দেখছি প্রেমে কিভাবে শেষ হয়ে যায়। তখন ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে ছিলাম আমাদের সাথেই পড়ত একটা মেয়ে নাম মুন্নি ছিল মুহিত ভাইয়ের সাথে দুই ইয়ার এর রিলেশন ব্রেকাপ করে এক টাকাওলা ছেলেররে বিয়ে করতে দেখেছি সেদিন তার চোখে কোন অপরাধবোধ দেখিনি দিব্বি হাসি খুশি বিয়ে করে নিয়েছে। আর তার জন্য নস্ট হয়ে গেছে এক সুন্দর জীবন কিন্তু সে দিব্বি সুখেই আছে। শুধু ভালবাসলেই কী হয়। একটা কথা আছে-স্বাধীনতা অর্জন করার চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। ঠিক তেমনই ভালবাসার আগে যদি ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবা হয় তাহলে হয়তো অনেক নিস্পাপ প্রান বেচে যেত।

পালিয়ে বিয়ে (paliye biye)||vagke sadi ||Run away  Marriage 

আচ্ছা তার সাথে কি আমার ফ্রেন্ডশিপ করা ঠিক হইছে। এইভাবে যদি তার কাছে থাকি তাহলে হয়তো কখনো নিজের ভাবনা থেকে হইতো তাকে আলাদা করতে পারবো না। হইতো একদিন এই জিনিস টা আমার কান্নার কারন হতে পারে। তারপর কেন আমার এইখান থেকে যেতে ইচ্ছা করছে না কেন তার মুখের দিকেই তাকিয়ে তার কথা শুনতে ইচ্ছা করছে। না না আমার ভুলে গেলে চলবে না সে আমার বড়। আচ্ছা সে যদি আমার ছোট হইতো তাহলে কী সে আমার হইতো।
– আচ্ছা আপনি যদি আমার জুনিয়র হতেন তাহলে কি আমার প্রপোজ এক্সেপ্ট করতেন। কথাটা বলে নিজেই নিজের জিবে কামর দিলাম। ছি এত সুন্দর করে বুঝানোর পরও কেন যে এইসব মাথায় আসে। এখন না জানি কি ভাবে উনারা। তাদের কাছে কোন কিছু না শুনেই ক্লাস রুমের দিকে হাটা দিলাম। হয়তো আজকের পর আর কথাই বলবে না। নিজেরেই কেন যেন নিজের কাছে বলদ বলদ লাগতেছে কেন। তুই আস্ত একটা বলদ। কোন জায়গায় কি বলতে হয় সেইটাও শিখিস নাই।

ক্লাসে রুমে ডুকে একবার চোখ বুলিয়ে নিলাম উদ্দেশ্য পরিচিত কেউ আছে নাকি। না এইখানে এমন কেউ নাই যারে চিনি।। আস্তে আস্তে পিছনে গিয়ে বসে গেলাম। নতুন তো তাই কেমন যেন আনিজি লাগতেছে। হঠাৎ কেউ একজন আমার পাশের সিটে বসলো বুঝতে পারলাম মেয়ে কিন্তু আমার দেখার ইচ্ছা নাই। তাই নিজের বাগের দিকেই তাকিয়ে আছি।

-হাই আমি আফরোজা আখি।

-হ্যালো আমি ইবু শেক সুজন।

-তাহলে কি তোমারে ইবু নামে ডাকবো।

-না সুজন ডাকলেই খুশি হবো।

-কেন আমি তো ইবু নামেই ডাকবোই। আমার কাছে ইবু নামটাই ভাল লাগছে। আমি তো ইবু বলেই ডাকবো।

-দেখুন আমার মা শুধু আমায় ইবু বলে ডাকে তাই চাই না আর কেউ আমায় ইবু বলে ডাকুক।

-আচ্ছা ঠিক আছে সুজন বলেই ডাকবো। আচ্ছা আমারা কি ফ্রেন্ড হতে পারি।

-এক সাথেই ক্লাস করবো ফ্রেন্ড একদিন হয়েই যাবো।

-না আমারা আজ এখন থেকেই ফ্রেন্ড। আর আমারে তুমি করে বলবা কেমন।

-আচ্ছা ঠিক আছে। এখন তো চুপ চাও ক্লাসে মনোযোগ দাও।

-আরে প্রথম প্রথম ক্লাস ভাল করে করায় না।

মনে মনে যা ভাবছিলাম তাই এই মেয়ে আস্ত একটা বাচাল। এত কথা কিভাবে বলে।

ক্লাস শেষ করে নিচে নামতেছি শিরি দিয়ে আবার আখি পিছন থেকে ইবু ইবু বলে ডাকতেছে। এই মেয়েরে যে জিনিস না করা যাসে সেটা আরো বেশি করে করবে এইটা বুঝা শেষ। ডাক শুনে দারাইলাম আর আর উনি আমার সামনে দিয়ে চলে গেল কেমনডা লাগে। কথা বলবে না তাহলে ডাকার কি দরকার ছিলো।

সামনে আগাতেই হঠাৎ সামনে এসে দারাইল। উদ্দেশ্য ছিল আমারে ভয় দেখানো।

-আচ্ছা তুমি এত লম্বা কেন।

আখির কথা শুনে অনেক হাসি পাইলো। হাসিটা কোনোরকম সাম্লিয়ে নিয়ে বললাম- তুমি একটু বেশিই খাটো তাই তো আমারে বেশি লম্বা মনে হয়।

-আমারে খাটো বলবা না আমি যথেষ্ট লম্বা। আর তুমি একটু বেশিই লম্বা।

-আচ্ছা আজকে যাই আমারা এইটা নিয়ে কালকে কথা বলবো কেমন।

-আচ্ছা।

এই মেয়ে এত কথা কিভাবে বলতে পারে। আর একটু সময় থাকলে তো আমি নিজেই পাগল হয়ে যেতাম।

গেটের কাছে আসতেই কে যেন পিছন থেকে ডাক দিল ঘুরেই দেখি—–

চলবে….

#অবুঝ-ভালবাসা(এক)

পালিয়ে বিয়ে (paliye biye)||vagke sadi ||Run away  Marriage